
শাহ আলম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় সবুজ সংঘ ক্যারাম টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় এলেঙ্গার সবুজ সংঘ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের সভাপতি, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) পরিচালক ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা মঈনউদ্দীন-ফখরুদ্দীনের সময়কার সরকারের আমল ও গত ১৭ বছর তাঁদের পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “মঈনউদ্দীন-ফখরুদ্দীনের সেনা-নিয়ন্ত্রিত সরকারের রোষানলে পড়ে আমার সমগ্র পরিবার দেশছাড়া হতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য ১২০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল। আমার ভাবিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমাদের বাড়িঘর কেড়ে নেওয়া হয়েছে, টাকা-পয়সাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আইনজীবী ছিলাম বলে হয়তো আমাকে তারা গ্রেপ্তার করতে পারেনি, সেভাবে জড়াতেও পারেনি। কিন্তু একজন আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন আমার পরিবারের মামলার বোঝা আমাকে টেনে বেড়াতে হয়েছে।”
শুক্লা বলেন, “আমার ভাই তারেক জিয়ার দুর্নীতির মামলায় রাজসাক্ষী বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তাকে রাজসাক্ষী দিতে বলা হয়েছিল। তিনি রাজসাক্ষী দিতে রাজি হননি। এ কারণে তাঁর জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তাঁকে ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। এরপর ৫ আগস্টের পর অনেক মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন।”
তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য আমাদের পরিবার অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। অনেক দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে আমাদের পরিবারের সদস্যদের সময় কাটাতে হয়েছে। হয়তো অনেকেই তা জানেন না। অনেকে অনেক কথা বলেন। এখন হয়তো আমাদের সেই কথাগুলো বলার সময় এসেছে।”
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের, বিশেষ করে নদীভাঙন এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য আমার বাবা কাজ করে গেছেন। তিনি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছেন। আমিও তাঁর আদর্শকে ধারণ করে এ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করব এবং উন্নয়নের জন্য পাশে থাকব।”
সবুজ সংঘ ক্লাবের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই সবুজ সংঘ ক্লাবটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্লাবের উন্নয়নে আমার বাবারও ভূমিকা ছিল। আমিও এই ক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকব। মানুষের কল্যাণে এবং এলাকার মানুষের জন্য সবসময় কাজ করে যেতে চাই।”
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি দক্ষিণ আফ্রিকার সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী লিটন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সবুজ সংঘ, এলেঙ্গার সভাপতি মো. মাসুদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ। এ সময় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শুকুর মাহমুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনও আরও দৃঢ় হবে।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।।