
শরীফুল আলম,ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
‘কাজ শেষে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেই যে গেল, আর ফিরল না। ২৪ দিন ধরে স্বামীর কোনো খোঁজ নেই। মোবাইলও বন্ধ। কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না।’—কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন আসমা খাতুন। তাঁর স্বামী মো. রফিকুল ইসলাম (৫০) পঁচিশদিন ধরে নিখোঁজ।
রফিকুল ইসলাম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের দেবস্থান বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত সবদর আলীর ছেলে। কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে তিনি নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের পাটুয়া গ্রামে গিয়েছিলেন। গত ৭ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে সহকর্মী বকুলের সঙ্গে সেখান থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এরপর থেকেই তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রওনা হওয়ার আগে বিকেল ৫টার দিকে স্ত্রী আসমা খাতুনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন রফিকুল। ফোনে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান। এরপর তাঁর ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবারের ধারণা, ভৈরব সড়ক হয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। নিখোঁজের ঘটনায় গত ১৩ আগস্ট নরসিংদী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডি নম্বর ৬৮৩।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জিডির পরও রফিকুলের সন্ধান মেলেনি। তাঁকে খুঁজতে নরসিংদী, ভৈরব, টঙ্গীসহ বিভিন্ন হাসপাতালেও খোঁজ করা হয়েছে।
এদিকে রফিকুলের নিখোঁজের ঘটনায় জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এনেছে পরিবার। স্ত্রী আসমা খাতুনের দাবি, রফিকুলের নামে সাফকাওলা দলিল থাকা সত্ত্বেও প্রায় সাড়ে সাত শতক জমি প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁর অভিযোগ, এ বিরোধকে কেন্দ্র করে রফিকুলকে বিভিন্ন সময় মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আসমা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী দিনমজুর মানুষ। কারও সঙ্গে তাঁর কোনো শত্রুতা নেই। জমির বিরোধ নিয়ে আগে কয়েকবার মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এখন ২৪ দিন ধরে তাঁর কোনো খোঁজ নেই। আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমার স্বামীকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’
রফিকুলের একমাত্র মেয়ে মোসা. অনন্ত খাতুন (২৮) বলেন, ‘বাবা কোথায় আছে, আমরা জানি না। ২৫দিন ধরে খুঁজছি। আমাদের সন্দেহের বিষয়টি তদন্ত করে বাবাকে খুঁজে বের করার দাবি জানাই।’
পরিবারের দাবি, রফিকুলকে দ্রুত উদ্ধার করে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার কারণ ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক। নিখোঁজ রফিকুলের উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, গায়ের রং শ্যামলা। নিখোঁজের সময় তাঁর পরনে সাদা শার্ট ছিল। সঙ্গে মোবাইল ফোন, টাকা ও ব্যাগ ছিল।
জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও নিখোঁজ রফিকুল ইসলাম সম্পর্কে জানতে প্রতিপক্ষ হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে গেলে কোন পুরুষ লোককে পাওয়া যায়নি। এসময় তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে সত্য। কিন্তু রফিকুল ইসলাম নিখোঁজের বিষয়টির মাঝে রহস্য আছে। আমাদেরকে হেনস্থা করতে এটা তাদের সাজানো নাটক হতে পারে।
নিখোঁজ দিনমজুর রফিকুল ইসলামের জিডির ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা নরসিংদীর মাধবদী থানার এসআই মো. আঃ বাকের হাওলাদার বলেন,’জিডি করার পর নিখোঁজ রফিকুল ইসলামকে উদ্ধারে প্রযুক্তিগত ও আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।