
শ্যামল হালদার,রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
ফুলজোড় নদীতে সারি সারি খাঁচায় মাছ চাষে করে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন একশত বায়ান্ন জন যুবক। শুধু তাই না এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৪ শতাধিক।
সরেজমিনে ও তথ্য সূত্রে জানা যায়, সময়ের পরিক্রমায় আজ ভূইয়াগাঁতী থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিঃ মিঃ এলাকা জুড়ে ফুলজোড় নদীর দুই পাশে খাঁচায় মাছ চাষীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। ৫ বছর আগে সেখানে ৩০ জন চাষী ছিল আজ সেখানে ১৫২ জন মৎস্য চাষীর ৭ শত খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার সরাসরি মাছ চাষের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। এলাকায় ২০১১ সালে ফুলজোড় নদীতে নেট জাল দিয়ে বিশেষ ভাবে তৈরি খাঁচায় মাছ চাষ শুরু হয় । এই কর্মসংস্থানের পথ দেখান দিন- মুজুর হোসেন আলী, শামছুল হক,আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর, জয়নাল। অবসর সময়ে মুজুরের কাজ করতে তারা চাঁদপুরের যান সেখান থেকে এ ধারণ নিয়ে এলাকায় শুরু করেন এই চাষ পদ্ধতি। ড্রাম নেট বাঁশ জাল দিয়ে ১৫ ফুট প্রস্ত ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে খরচা হয় ২০ হাজার টাকা।
২৮ টি খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষী মাস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,তেলাপিয়ার পোনা(কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ পিচ) খাঁচায় ছাড়া হয়। পোনা থেকে প্রতি কেজি মাছ তৈরিতে পৌনে দুই কেজি ভাসমান ফিড খাবার ও ঔষধ দিলে ৫ মাসে একেকটি মাছের ওজন ১ কেজি হয়। কেজি ওজনের মাছ তৈরিতে ১৭৫ টাকা খরচ হয়। বাজারে তেলাপিয়া (মনোসেক্স) মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এই চাষ পদ্ধতি। আরেক চাষী লোকমান হোসেন বলেন,শীতকাল তেলাপিয়া মাছ চাষের উপযুক্ত মৌসুম,ফুলজোড় নদীতে ৬৫ টি খাঁচায় মাছ চাষ করি।
ভূইয়াগাঁতী শ্মশানের পূর্ব পাশে ৪৫ টি খাঁচায়(তেলাপিয়া) মাছ চাষী(পুরস্কার প্রাপ্ত)আতাউর রহমান জানান, চৈত্র থেকে বৈশাখ মাস এই মাছ চাষের উপযুক্ত সময় কিন্তু উজান থেকে কেমিক্যাল নদীতে ছাড়ার কারণে মাছ মরে যায়। এতে আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হই।
রায়গঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ফুলজোড় নদীতে প্রায় ১ হাজার খাঁচায়(তেলাপিয়া) মাছ চাষ করে দেশীয় মাছ উৎপাদনে চাষীরা একটি বড় ভূমিকা রাখছে, সরকারের সহযোগিতা পেলে আরো বড় পরিসরে তারা মাছ উৎপাদন করতে পারবে।