
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
মাত্র ৫০ মিটার রাস্তার দুর্ভোগ যেন থমকে দিয়েছে একটি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের সড়কের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে পানিতে তলিয়ে থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে না পারায় তাদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধরইল বাজারের পশ্চিম পাশে সাইফুলের বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৫০০ মিটার। এর মধ্যে প্রায় ৫০ মিটার রাস্তা প্রায় পাঁচ ফুট গভীর গর্তে পরিণত হয়ে পানিতে ডুবে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পাশ থেকে মাটি কেটে পুকুর খননের ফলে রাস্তাটি ভেঙে গিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ সামান্য মাটি ভরাট করলেই রাস্তাটি আবার চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিমা মৌ ও তানিয়া জানায়, বৃষ্টির দিনে কাদামাখা ও পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা পেরিয়ে স্কুলে যেতে ভয় লাগে। অনেক সময় পোশাক ও বই-খাতা ভিজে যায়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অভিভাবকেরাও উদ্বিগ্ন থাকেন।
১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ধরইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থানীয়ভাবে নারী শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। একসময় শতভাগ পাসের গৌরব অর্জনকারী বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু একটি ছোট রাস্তার কারণে তাদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ ও ২০ থেকে ২৫ ফুট প্রশস্ত রাস্তাটির দুই পাশের বড় অংশ বেদখল হয়ে যাওয়ায় সমস্যাটি আরও জটিল হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
বাঙ্গালা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবলু বলেন, “স্থায়ীভাবে রাস্তা নির্মাণে সরকারি প্রকল্পের প্রয়োজন। স্থানীয় উদ্যোগে এত বড় কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”
উল্লাপাড়া বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, একটি ছোট রাস্তার অব্যবস্থাপনার কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের সড়কটি সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।