
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সার চুরি এবং বৃষ্টির পানিতে ভিজে সার নষ্ট হওয়ার ঘটনায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে ‘অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা’ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
একই অফিস আদেশে যশোরের মনিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমীন শাহানাজকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে বদলি করে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে ‘অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা’ হিসেবে পদায়ন করা হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরকারি সারের চালান চুরি ও বিনষ্ট হওয়ার ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্তে কাজ শুরু করেছেন। বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উন্মুক্ত স্থানে কৃষকদের জন্য সংরক্ষিত ৫৩ বস্তা সার দুই দফায় চুরি হয়। এছাড়া বৃষ্টির পানিতে ভিজে আরও অন্তত ২০ বস্তা সার নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
প্রতিবেদনে সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে কৃষি বিভাগের অব্যবস্থাপনা এবং সার নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তির চিত্র উঠে আসে। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।