
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগেঞ্জে ১১ দলীয় জোটের লং মার্চ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুস সবুর নামে এক জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতিসহ দলটির ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
শনিবার (১৯ মার্চ রাতে) আহত সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুস সবুরের স্ত্রী মোছা. শোহর ভানু বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
লংমার্চ শেষে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জামায়াত নেতাকে মারধোরের ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা টু রংপুর লংমার্চের গাড়ীবহরকে অভ্যর্থনা জানাতে সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিল। লংমার্চ চলে যাওয়ার পর ওনারা যার যার বাড়ি চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় রফিক সরকারের নেতৃত্বে বিএনপির চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আব্দুস সবুরের ওপর হামলা চালায়। এছাড়াও নুরনবী নামে অপর এক জামায়াত নেতাকেও কিল ঘুষি দেয়। আব্দুস সবুরকে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তার পায়ে-হাতের কবজিসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। গুরুতর আহত আব্দুস সবুরকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, আল-আমিন নামে আমাদের এক ছেলে দুপুরের দিকে মোহনপুর বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। তখন জামায়াতের নেতারা ওর ভিডিও করছিল। তারপর জামায়াতের আমির সিরাজুল ওকে কলার ধরে ঘুরিয়েছে, ছাতা দিয়ে পেটানো হয়েছে এবং কিলঘুষি দিয়েছে। ওরাই এই ভিডিওটি ছেড়েছে। পরে স্থানীয় কিছু পোলাপান সবুরকে ধরে কিলঘুষি দিয়েছে। কাঠের চেলা দিয়ে হয়তো মেরেছে এ জন্য কেটেছে। কোপানোর যেসব কথা বলা হচ্ছে সেগুলো মিথ্যা। মূলত ওরাই আগে ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে, আব্দুস সবুরকে কুপিয়ে জখম করার প্রতিবাদে শনিবার রাতেই শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ওই মিছিলে অংশগ্রহণ করতে এসে এক জামায়াত নেতা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানান জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শহরের দরগারোডের সংগঠনের কার্যালয় থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে ফিরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক আমির দুলাল হোসেন রোকনী হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।