
অনলাইন ডেস্ক
মায়ের গর্ভে একইসঙ্গে একের অধিক সন্তানের ভ্রূণ বেড়ে উঠলে তাকে মাল্টিপল প্রেগন্যান্সি বা একাধিক গর্ভধারণ বলে। আমাদের দেশে মাল্টিপল প্রেগন্যান্সিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের বলা হয় যমজ শিশু। তবে কখনো কখনো টুইন বা ট্রিপলেট বা এর বেশিও শিশু হতে পারে।
যমজ সন্তান কীভাবে হয়?
নারীর ঋতুচক্রে সাধারণত একটি ডিম্বাণু নিঃসৃত হয়ে থাকে। এই ডিম্বাণুটি যখন পুরুষের একটি স্পার্ম বা শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয় তখন গর্ভধারণ হয়। কিন্তু কখনো কখনো একের অধিক ডিম্বাণু তৈরি হলে যদি তারা আলাদা আলাদা শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়। তখন মায়ের গর্ভে একাধিক শিশু একসঙ্গে বেড়ে উঠে এবং এর কারণেই যমজ শিশু জন্মায়। এ ধরনের যমজকে ‘ফ্র্যাটারনাল টুইন’ বলে।
প্রতি ১০০০টি প্রসবে ১২ জন মায়ের যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তুলনামূলকভাবে এশিয়া ও আফ্রিকা অঞ্চলে যমজ শিশু জন্মদানের ঘটনা বেশি। অনেকের ধারণা, আইভিএফ মানেই যমজ সন্তানের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে যমজ সন্তান হবে কি না, তা নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ওজন, ফার্টিলিটি ট্রিটমেন্ট বা বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে।
জেনে নিন আপনার যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা কতখানি-
সব মহিলাই মা হওয়ার আশা পোষণ করেন। তবে মহিলাদের বেশি বয়সে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। সন্তান ধারণের জন্য আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য নিতে হয় অনেককেই।
তবে আইভিএফ মানেই যমজ সন্তানের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, এমনটা নয়। বেশ কিছু কারণে যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
১। পরিবারে কোনো যমজ থাকলে, যমজ সন্তান হতে পারে। অনেক মহিলার শরীরে দুই বা তার বেশি সংখ্যক ডিম্বাণু উৎপাদন হয়। একে বলে হাইপার ওভিউলেশন। এই প্রবণতা মেয়েদের মধ্যে মায়ের ডিএনএ থেকে আসতে পারে। এমন ক্ষেত্রে যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২। ২০১৮ সালে আমেরিকার জন্মহারের সমীক্ষা অনুযায়ী, গায়ের রং চাপা হলে যমজ সন্তানধারণের সম্ভাবনা বেশি।
৩। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ওবেসিটির সমস্যা থাকলেও যমজ বা আরও বেশি সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষত যাদের বডি মাস ইনডেস্ক (বিএমআই) ৩০-এর ওপর, তাদের বেশি যমজ সন্তান হয়।
৪। খুব বেশি লম্বা মেয়েদের যমজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মেয়েদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। গবেষকদের মতে, উচ্চতার জন্য দায়ী কিছু হরমোন যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
৫। বেশি বয়সে সন্তানধারণ করলে যমজ সন্তান জন্মের সম্ভাবনা বাড়ে। বিশেষ করে ৩৫ বা ৪০ বছরের বেশি হলে। মেয়েরা যত মাসিক ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া দিকে এগিয়ে যান, ততই তাদের শরীরে কিছু হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে। তাতেই যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
যমজ গর্ভধারণের প্রকারভেদ
যমজ গর্ভধারণের ধরন এবং এর লক্ষণগুলো সাধারণ গর্ভধারণের চেয়ে কিছুটা আলাদা হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে জমজ গর্ভধারণকে মূলত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে-
মনোজাইগোটিক বনাম ডাইজাইগোটিক: মনোজাইগোটিক জমজ তৈরি হয় একটিমাত্র নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে। এই ডিম্বাণু বিভক্ত হয়ে দুটি ভ্রূণ তৈরি করে, ফলে এরা জিনগতভাবে একে অপরের হুবহু এক হয়। অন্যদিকে, ডাইজাইগোটিক জমজ আসে দুটি আলাদা ডিম্বাণু থেকে, যা সাধারণ ভাইবোনদের মতোই জন্ম নেয় এবং হুবহু এক হয় না।
ডিকোরিওনিক বনাম মনোকোরিওনিক: এখানে ‘কোরিয়ন’ বলতে প্লাসেন্টা বা অমরাকে বোঝানো হয়। কিছু জমজ সন্তান একই প্লাসেন্টা শেয়ার করে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে আলাদা প্লাসেন্টা থাকে।
মনোঅ্যামনিওটিক বনাম ডিয়্যামনিওটিক: এতে বোঝানো হয় জমজ শিশুরা একই অ্যামনিওটিক থলিতে অবস্থান করছে নাকি তাদের জন্য আলাদা আলাদা থলি রয়েছে।
যমজ গর্ভধারণের লক্ষণ
যমজ গর্ভধারণের ফলে নারীর শরীরে গর্ভাবস্থার হরমোনের মাত্রা, বিশেষ করে হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন অনেক বেশি পরিমাণে উৎপাদিত হয়। এর ফলে গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণগুলো আরও তীব্র হতে পারে।
সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া।
২. ক্ষুধা ও খাওয়ার রুচি বেড়ে যাওয়া।
৩. সকালের বমি ভাব এবং ক্লান্তি বেশি অনুভূত হওয়া।
৪. পূর্ববর্তী বা একক গর্ভধারণের তুলনায় উপসর্গগুলো অনেক বেশি তীব্র হওয়া।
৫. পেটের ভিন্ন ভিন্ন অংশে স্পষ্টভাবে নড়াচড়া অনুভব করা।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে