
মোঃ রবিউল আউয়াল, স্টাফ রিপোর্টারঃ
মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। কোথাও আগাম জাতের ফুলকপি, কোথাও বেগুন, টমেটো, লাউ, শিম, মুলা, শসা ও মরিচের চাষ। কৃষকের ব্যস্ততায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সবজি ক্ষেতগুলো। আগাম সবজি চাষে কৃষকের সম্ভাবনা ও উৎপাদন পরিস্থিতি দেখতে মাঠ পরিদর্শন করেছেন কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকার সবজি ক্ষেত ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় আগাম জাতের ফুলকপি, বেগুন, টমেটো, লাউ, মুলা, শসা, মরিচসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ ও গাছের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ফসলের পরিচর্যা, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ, সার প্রয়োগ এবং সেচ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম এবার আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি জানান, তাঁর জমিতে ‘রত্না-রত্নাশা ৪৫ দিনী’ ও ‘হোয়াইট মার্বেল’ জাতের ফুলকপি রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে এসব ফুলকপি বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি। আগাম বাজারে ফুলকপির ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে তাঁর।
মাঠ পরিদর্শনকালে কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম কৃষকদের সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা, পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। আগাম ফুলকপি, টমেটোসহ অন্যান্য সবজির ভালো ফলন পেতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কৃষকেরা মাঠে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা কৃষি কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরেন। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান কৃষি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, ফসলের পরিচর্যা ও বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও সরাসরি কারিগরি পরামর্শের ফলে কাজিপুরে সবজি চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন ও কৃষকের আয় বাড়বে—এমন প্রত্যাশা কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের।