
বুটেক্স প্রতিনিধিঃ
শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর শিউলি ফুলের সুবাসে প্রকৃতিতে জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। ঢাকের শব্দ, নতুন পোশাক, মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি—সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে ভিন্ন আবহ। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের কাছে দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক বন্ধন, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।
উচ্চশিক্ষার ব্যস্ততায় বাড়ি থেকে দূরে থাকা এসব শিক্ষার্থীর কাছে পূজার ছুটি মানেই পরিবারের কাছে ফেরা, পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা এবং শেকড়ের টানে উৎসবে মেতে ওঠা। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পূজার আনন্দের ধরন বদলালেও ঐতিহ্য ধরে রাখা, ধর্মীয় তাৎপর্য জানা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁদের।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দিবাঞ্জলি ধর জানান, রাউজানের গ্রামের বাড়িতে প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। এবারও পরিবারের সঙ্গে পূজা উদ্যাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে পরিবারের অনেক সদস্য বিদেশে থাকায় সবাইকে একসঙ্গে পাওয়ার আনন্দ আগের মতো নেই। নতুন প্রজন্মকে পূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য সম্পর্কে জানার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তনুশ্রী দের কাছে পূজা মানেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা। পড়াশোনার চাপ পেছনে ফেলে পূজার দিনগুলো প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটাতে চান তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, সবার জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও নিরাপত্তা বজায় থাকুক।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অন্তর রায় মনে করেন, পূজার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। ধুনুচি নাচ, ঢাক বাজানো এবং পূজার ইতিহাস জানার মাধ্যমে ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব।
অন্যদিকে, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রীতিশ সেন পূজার ধর্মীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নীলদাস জয়ের প্রত্যাশা, আধুনিক আয়োজনের পাশাপাশি পুরোনো রীতিনীতি ও সাত্ত্বিক চর্চা অব্যাহত থাকবে। একই বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অরণ্য দাস মনে করেন, পূজার মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে বুটেক্সের সনাতনী শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দুর্গোৎসব হয়ে উঠুক আনন্দ, ভালোবাসা ও মিলনের উৎসব। অশুভ শক্তির বিনাশের পাশাপাশি সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর হোক। ধর্মীয় ঐতিহ্যকে ধারণ করে সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এগিয়ে যাক বাংলাদেশ—এমন প্রার্থনাই তাঁদের।