
পলাশ চন্দ্র সরকার,মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় এক ব্যক্তিকে পথরোধ করে সন্ত্রাসী কায়দায় একটি ইটভাটায় তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ভাটামালিক মকছেদ আলী ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) রাত নয়টার দিকে উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের মীরপুর এলাকায় হাজেরা ব্রিকস নামের ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর নাম আজিজার রহমান (৬১)। স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাঁকে ইটভাটা থেকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি গনেশপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজিজার রহমান বলেন, গোবিন্দপুর গ্রামের সোহেল রানার সঙ্গে সতিহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকার কিছু জমি নিয়ে ভাটামালিক মকছেদ আলীর বিরোধ চলছে। তিনি সোহেল রানার পক্ষে জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাশোনা করতেন। এ কারণে মকছেদ আলী ও তাঁর লোকজন দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
আজিজার রহমানের অভিযোগ, শনিবার রাত নয়টার দিকে বিনয়বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আছির মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে মকছেদ আলীর জামাই লিটন ও সন্ত্রাসী কাজলের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল লোক তাঁর পথরোধ করে। পরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁকে মীরপুর এলাকায় হাজেরা ব্রিকস নামের ইটভাটায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাত-পা বেঁধে তাঁকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আজিজার রহমানের ভাতিজা মাসুদ রানা বলেন, চাচাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে গ্রামের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ইটভাটায় যান। সেখানে আজিজার রহমানকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভাটামালিক মকছেদ আলী। তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তাঁর ইটভাটায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
মান্দা থানার ওসি খোরশেদ আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।