
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
খুলনা বিভাগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের চারটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারদর এবং ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার পুলেরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানসীপ ট্রেডার্সকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য বিক্রয়, পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে ডুমুরিয়া উপজেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারিকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে গাংনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহাগ ফার্মেসিকে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অপরাধে ৩০ হাজার টাকা এবং নান্না বিরিয়ানি হাউজকে খাদ্যদ্রব্যে নিষিদ্ধ উপাদান মেশানোর অপরাধে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স জীবনানন্দ দাস স্টোরকে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ১২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
এ সময় ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তদারকিকালে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলা হয়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।