
ন্যাশনাল ডেস্ক
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কনে নিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নবদম্পতিসহ ১২ জন।
কনে সুমাইয়া আক্তার বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে, আর বর মোরছালিন ইসলাম ভাঙা হাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ-টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়ার মোজা মিয়ার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিয়াদ ইসলাম (১৮) ও একই এলাকার জিকরুল ইসলামের সাত মাস বয়সী ছেলে জীবন ইসলাম।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। সেই বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে বরের সঙ্গে প্রায় ১৫ জন এসেছিলেন। পরে বিয়ে শেষে বরযাত্রী কনেকে নিয়ে মাইক্রোবাসে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৩টার দিকে শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।
এসময় মাইক্রোবাসে থাকা বর কনেসহ অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও জানা গেছে, বর-কনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কনে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ও বরের ডান হাত ভেঙে যাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন দেব বলেন, রাতে ১৪ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আসার পরে দুজনকে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১২ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল গফুর বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাসটি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।