
খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় হাবিবুর রহমান হত্যা মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা মামলার দুই পলাতক আসামিকে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)
এসআরবি-৯ ও এসআরবি-১৪-এর যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মধ্য
রাতে নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বীর উত্তর এলাকার ইউনুছ মিয়ার ছেলে মোঃ সাগর (৩১) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের হীতপুর এলাকার প্রফুল্ল দাসের ছেলে নিরঞ্জন (৩৭)।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর উপজেলার কালিউতা এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান (৪০) সৌদি আরবে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকায় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ১ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন হাবিবুর।
নিখোঁজের কয়েকদিন পর তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়। ফোনে জানানো হয়, হাবিবুর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির মধ্যেই গত ৭ সেপ্টেম্বর নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর এলাকায় সততা ইটভাটার সামনে গাঙ্গের পানিতে অজ্ঞাত এক পুরুষের পচা ও অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে মরদেহটি হাবিবুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন তাঁর স্ত্রী।
পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাবিবুরকে হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৯। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে নেত্রকোনা সদর থানার ঠাকুরকোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগরকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে একই রাতে রাত ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে সরাইল থানার শাহবাজপুর ইউনিয়নের কৈবর্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় নিরঞ্জনকে।
এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার দুজনই মামলার তদন্তে শনাক্ত হওয়া পলাতক আসামি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের নাসিরনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।