
এরশাদ আলী,সলঙ্গা( সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ থেকে ডাকাতি করা গরু জবাইয়ের পর মাংস ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে সরবরাহ করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় এক বছর আগে সংঘটিত গরু ডাকাতির একটি মামলার তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন কোন সুপারশপে ওই মাংস সরবরাহ করা হতো, তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।
শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা গ্রামের মো. আব্দুল্লাহর ছেলে রিপন ওরফে হাসান, ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার এনায়েতপুরের জুলমত খানের ছেলে জিয়া হোসেন এবং পাবনার বেড়া উপজেলার মোহনগঞ্জ গ্রামের গোলজার সেখের ছেলে আব্দুল আলিম।
পুলিশের দাবি, জিয়া হোসেন ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে মাংস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে আব্দুল আলিম সহযোগী কসাই হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ উত্তরাঞ্চল থেকে ১৪টি ষাঁড় কিনে পিকআপভ্যানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। রাতে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের সলঙ্গা এলাকায় ডাকাত দল ট্রাক দিয়ে পিকআপটির গতিরোধ করে। পরে চালক, সহকারী ও গরুর রাখালদের হাত-পা বেঁধে গরুগুলো নিজেদের ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন ওই ব্যবসায়ী।
ওসি আলী আসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রিপন ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ডাকাতির গরু জবাই, মাংস বিক্রি এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে জবানবন্দি দেন। সলঙ্গা থানা আমলি আদালতের বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া এলাকা থেকে জিয়া হোসেন ও আব্দুল আলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে গবাদি পশু লুটের আশঙ্কা বেড়েছে। যমুনা নদীর দুর্গম চরের চৌহালী উপজেলার ঘোরজান ইউনিয়নের মুরাদপুর কাউনিয়ার চরে গত বছরের ২০ মে গো-খামারি তারা মিয়াকে হত্যা করে গবাদি পশু লুটের ঘটনা ঘটে। আলোচিত ওই মামলার তদন্তেও সংঘবদ্ধ গরু ডাকাত চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক এসআই সারফুল ইসলাম বলেন, তারা মিয়া হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী এলাকার গফুর ও তার ছেলে গিয়াস উদ্দিনসহ আরও ১৪ আসামি পলাতক রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে গরু চুরি ও ডাকাতি ঠেকাতে সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সহায়তায় রাতভর পাহারা দিচ্ছেন খামারি ও স্থানীয়রা। সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নেও ঈদ সামনে রেখে গবাদি পশুর চুরি হওয়ার আশঙ্কায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী।
বহুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, অপরিচিত গাড়ি, ট্রাক, পিকআপভ্যান ও বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোই পাহারার মূল লক্ষ্য।