
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ )প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ধানের পাতায় পোড়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাই হাজীপুর মৌজায় প্রায় ১০ বিঘা জমির ধান এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে ধানের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরাই হাজীপুর গ্রামের কৃষক আলামিন খান ও মো. আবুল হাসেমের ধানের জমিতে রোগের লক্ষণ স্পষ্ট। আলামিন খানের ৪ বিঘা এবং আবুল হাসেমের ৪ বিঘা জমির ধান এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ধানের পাতার আগা ও কিনারা হলদে-বাদামি হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেকটা পাতা পুড়ে যাওয়ার মতো দেখাচ্ছে ধানের ক্ষেত।
কৃষকরা জানান, শুরুতে ধানের পাতার কিছু অংশে বিবর্ণতা দেখা দেয়। পরে ধীরে ধীরে পাতার আগা ও কিনারা শুকিয়ে পুরো গাছের ওপর প্রভাব পড়তে শুরু করে। রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে তারা শঙ্কিত।
কৃষক আলামিন খান বলেন, “ধানের গাছ ভালোই ছিল। হঠাৎ করে পাতার আগা শুকাতে শুরু করে। পরে ধীরে ধীরে অনেকটা জমিতে একই অবস্থা হয়েছে। এখন কীভাবে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।”
অপর কৃষক মো. আবুল হাসেম বলেন, “আমার প্রায় ৪ বিঘা জমির ধানে রোগ দেখা দিয়েছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত রোগের কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আশপাশের জমিতেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত নই। ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে দেখে বিস্তারিত জানাচ্ছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “ধানের জমিতে এ ধরনের রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে রোগটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আক্রান্ত জমির কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রোগটি যাতে অন্য জমিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে কৃষকদের সতর্ক করা হবে।”
কৃষকরা বলছেন, আমন মৌসুমের ধান তাদের অন্যতম প্রধান ফসল। জমিতে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।