
মোঃ আজিজুল হাকিম দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের খনিজ সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অনগ্রসরতা দূর হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শনিবার দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ‘ইনফ্লুয়েন্স জোন’-এর পার্শ্ববর্তী ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি গ্রামের অধিবাসীদের ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় ক্ষতিপূরণ ও অনুদানের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খনি এলাকার অফিসার্স ক্লাব ‘মনমেলা’ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহারে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বিএনপিকে বিজয়ী করেছে এবং তারেক রহমানের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
বিসিএমসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই রূপরেখা পর্যবেক্ষণ ও চেক বিতরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা। এছাড়াও খনি কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, কয়লাখনি সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি গ্রামের মোট ২ হাজার ২৫টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ১০ কোটি ২০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। ক্ষতিপূরণের নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা ঘরের জন্য ৮ হাজার টাকা, সেমি-পাকা ও পাকা বাড়ির জন্য ১০ হাজার টাকা এবং গোডাউনের জন্য ২৫ হাজার টাকা হারে অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।
কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে মোট ১৩০ জন ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থের হাতে চেক তুলে দেওয়া দেওয়া হয়। বাকি সকল নিবন্ধিত পরিবারগুলোর মাঝে পর্যায়ক্রমে এই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন করা হবে বলে বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
ক্ষতিপূরণ পাওয়া গ্রামগুলোর তালিকায় রয়েছে— উত্তর চৌহাটি, চক মহেশপুর, চেরাপাড়া, মোবারকপুর, দক্ষিণ রসুলপুর (ছোট), দক্ষিণ রসুলপুর (বড়), মধ্য দুর্গাপুর, কয়লাখনি বাজার, শাহাগ্রাম, হামিদপুর, বৈগ্রাম বাজার, বৈগ্রাম, জব্বারপাড়া, পূর্ব জব্বারপাড়া এবং কাশিয়াডাঙ্গা।