
মো. আতিকুর রহমান,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের ধাওয়ার মুখে ওই শিক্ষক পরনের লুঙ্গি, গামছা, স্যান্ডেল ও মোবাইল ফোন ফেলে পালিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার মধ্যরাবাইতারী গ্রামের নেওয়াশী বাজারের পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন উত্তর রাবাইতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল আমিন নূরু (৪৯)। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই সন্তানের জননী মৌসুমী আক্তারের (৩৬) সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠক ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব উদ্যোগের পরও সম্পর্কের বিষয়টি বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৌসুমীকে তার এক আত্মীয়ের পরিত্যক্ত বাড়িতে ডেকে নেন নূরুল আমিন। সেখানে তারা অবস্থান করছেন—এমন খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন ওই বাড়িটি ঘেরাও করেন। এ সময় পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে নূরুল আমিন সেখান থেকে পালিয়ে যান। পালানোর সময় তার পরনের লুঙ্গি, গামছা, স্যান্ডেল ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে বলে স্থানীয়দের দাবি।
ঘটনার পরদিন বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে বটতলা বাজারে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বৈঠকে উপস্থিত হননি বলে জানিয়েছেন সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিরা। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে পারিবারিক বিরোধের জেরে মৌসুমী আক্তারের স্বামী হাবিবর রহমান কাজী অফিসে গিয়ে তাকে তালাক দিয়েছেন বলে জানা গেছে। হাবিবর রহমান বলেন, দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে তিনি থাকবেন; তবে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর তাকে আর সংসারে রাখবেন না।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আইয়ুব মুন্সী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে দাবি করলেও এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নেওয়াশী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মনসুর আলী বলেন, প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সালিশে ডাকা হয়েছিল। তবে প্রধান শিক্ষক নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে বৈঠকে উপস্থিত হতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল আমিন নূরুর বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা না করারও দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।