
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষককে গ্রামবাসীরা মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের বেগুয়ারখালি চরপাড়া গ্রামের চরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ঘিরে যৌন হয়রানির অভিযোগটি ওঠে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবারের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আবুল কালাম আজাদ। তিনি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি চরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা সাহানুর রহমানের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেওয়া হতো। বুধবার রাতে মাদ্রাসায় তাঁর মেয়েকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
সাহানুর রহমান আরও বলেন, বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয়রা জানতে পারার পর শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় তাঁদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ঘটনাটি জানাজানি হলে উৎসুক লোকজন শিক্ষকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হন। পরে তাঁকে আটক করে মারধর করা হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বাবা আবুল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর ছেলে এমন কোনো কাজ করতে পারেন না দাবি করে তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে মাদ্রাসাশিক্ষককে উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেয়। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।