
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের ওপর হামলা ও তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি তমাল সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আব্দুর রব শোভন (তমাল সরকার ) রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাগানবাড়ী এলাকার মৃত সিরাজ সরকারের ছেলে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান।
তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ধানগড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তমাল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারে সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে বের হওয়ার সময় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় এমপি অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার রাতেই স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে মামলায় রায়গঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ও রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুক্তাদির এবং রনতিথা মহল্লার বাবলু মিয়ার ছেলে হোটেল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার চার আসামি বর্তমানে আগাম জামিনে রয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক। প্রধান আসামি তমাল সরকারকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে হামলার ঘটনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানাকে আহ্বায়ক এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ভিপি শামীম খানকে সদস্যসচিব করে এ কমিটি গঠন করা হয়।
পুলিশ বলছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।