
ন্যাশনাল ডেস্ক
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পানির ট্যাঙ্কে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে একই পরিবারের সাতজনকে অচেতন করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার যশরা ইউনিয়নের কাঁঠালডিঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ বাড়ির মালিক সৌদি প্রবাসী মো. সিরাজুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
অসুস্থরা হলেন- বাড়ির মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম (৫০), তার স্ত্রী মল্লিকা আক্তার (৪০), মেয়ে সুমি আক্তার (২১), মেয়ের স্বামী শরিফ আহম্মেদ (৩০), সোমা আক্তার (১৩), শরিফা আক্তার (৩) ও লুৎফা আক্তার (৪০)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরের খাবার খাওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা একে একে অচেতন হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে সুমি আক্তারের শিশুকন্যার কান্নার শব্দে তার ঘুম ভাঙে। এ সময় তিনি শরীরে প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভব করেন এবং উঠে দাঁড়াতেও পারছিলেন না। কোনোমতে উঠে তিনি ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র এলোমেলো এবং বারান্দার লোহার গ্রিল কাটা দেখতে পান।
পরে সুমি আক্তারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পরিবারের সদস্যদের অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাদের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সিরাজুল ইসলামের মেয়ের জামাই শরিফ আহম্মেদ বলেন, রাতে বাড়িতে গিয়ে সবাইকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনিও খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তার ধারণা, দিনের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা পানির ট্যাঙ্কে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে রাখে। পরে ওই পানি পান করার পর পরিবারের সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়েন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা বারান্দার লোহার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে।
তিনি জানান, ঘরে জমি কেনার জন্য রাখা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, “আমার মনে হচ্ছে, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। কয়েক দিন আগেও একই এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।