1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
লোডশেডিংয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর মতবিনিময় এমপি ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনজুড়ে বিক্ষোভ চুয়াডাঙ্গায় আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা, ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নওগাঁর পোরশায় ১লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকার ট্যাপেন্টাডলসহ ২ জন মাদককারবারি আটক  মান্দায় মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম চুয়াডাঙ্গায় ন্যায্য মজুরি পেতে বিএডিসির শ্রমিকদের ধর্মঘট,গুদামে লোড-আনলোড বন্ধ শিমলা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে চারতলা ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন : এমপি আব্দুস সালাম পিন্টু  পোরশায় বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল রামগঞ্জে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির দোয়া ও মিলাদ

চুয়াডাঙ্গায় আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা, ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ Time View

 

 

 

শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ 

 

 

আষাঢ়-শ্রাবণ মাস বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্র্যে বর্ষাকাল। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষকের জন্য আমন ধানের চারা রোপণের সুবর্ণ সময় এই বর্ষাকাল। কখনো বিস্তীর্ণ আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের আস্তরণ। মুহূর্তেই আবার কালো মেঘে ভারী বৃষ্টি। এই রোদ-বৃষ্টির খেলার মধ্যেই ভোরের আলো ফুটতেই কাঁধে ধানের চারা, হাতে কোদাল আর চোখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে ছুটছেন কৃষকরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কৃষি শ্রমিকদের ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামের মাঠ। কোথাও বীজতলা থেকে চারা তোলা হচ্ছে, কোথাও সারিবদ্ধভাবে চলছে রোপণ। প্রকৃতি আর মানুষের পরিশ্রম মিলে লিখছে নতুন সম্ভাবনার গল্প। কাঁদা মাটিতে দাঁড়িয়ে একের পর এক ধানের চারা রোপণের দৃশ্য দেখে মনে হয়, যেন সবুজের বিশাল এক ক্যানভাস আঁকছেন তারা। বৃষ্টির মৌসুম শুরুতে একটু বৃষ্টি কম হলেও বর্তমান যথেষ্ট পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল বিল ডোবা নালা পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। তাই কৃষকরা উঁচু-ডোবা জমি থেকে আগাম পাট কেটে সেই জমিতে আমন ধান রোপণ করেছে। 

 

 

তবে বর্তমান– উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃষকদের। তাদের দাবি, লিটারে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এবার পাওয়ার টিলার মালিকরা গত মৌসুমের চেয়ে প্রতি বিঘায় ৩০০ টাকা চাষ খরচ বেশি নিচ্ছে। এছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা। অথচ বাজারে ধানের দাম কম। এ অবস্থায় সরকারের কাছে ধানের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করার দাবি তাদের। 

 

 

সরেজমিনে জানা যায়, গত বছরের চেয়ে বিঘা প্রতি হাল চাষে খরচ বেড়েছে ৩০০ টাকা, রোপণ করতে কৃষি শ্রমিকরা বেশি নিচ্ছেন ৫০০ টাকা, সংকটের অজুহাতে খুচরা বাজারে সারের দাম বস্তা প্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, কীটনাশকের দাম বেড়েছে ৫০০ টাকা। আবার বীজ ও সেচসহ অন্যান্য খরচতো আছেই। সবমিলে এবার এক বিঘা জমিতে আমন ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে জমির দামসহ ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অথচ গত বছর আমন চাষে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হয়তো এবার বিঘা প্রতি ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মণ ধান উৎপাদন হতে পারে। কিন্তু খরচ অনুপাতে ধানের নায্য দাম যদি না পাওয়া যায়, তাহলে গত আলু, পিয়াজ ও বোরো মৌসুমের মতই আমনেও লোকসান গুনতে হবে।

 

 

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৩৬ হাজার ৭৮১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইতোমধ্যে ৩০ ভাগ জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের কৃষক সোহাগ হোসেন বলেন, ফসল চাষ করে লাভ হচ্ছে না। আলুতে লোকসানের কারণে ঋণ করে বোরো চাষ করেছি। কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাইনি। বিঘাপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সব জিনিষের দাম বাড়লেও ধানের দাম নাই। ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় এবার চাষ খরচই নিচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আগে ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকা। আবার ৫০০ টাকার নিচে কোন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। সারের দামও বেশি। এজন্য বিঘাপ্রতি এবার চার-পাঁচ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। অথচ ধানের দাম কম।

 

 

বুকভরা কষ্ট নিয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, এনজিও থেকে লোন নিয়ে গত মৌসুমিতে ধান চাষ করে ছিলাম। বৃষ্টির পানিতে ধান নষ্ট হয়ে গেছে কলানো ধান বিক্রি করতে পারি নাই। কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এই মাঠই আমাদের সবকিছু, তাই আবারও মাঠে নেমেছি।

 

দামুড়হুদা উপজেলা এলাকার কৃষক জাকারিয়া আলম বলেন, ফসল উৎপাদন করে দাম না পেয়ে দিন দিন আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। আমন ধানেও যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়া যায়, তাহলে আমরা চলবো কিভাবে। একই চিত্র অন্যান্য কৃষকদেরও।

 

 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন,এ বছর জেলায় ৩৬ হাজার ৭৮১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকরা যেন লাভবান হতে পারেন সেজন্য ফলন বাড়াতে সার্বক্ষণিক তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুরো মৌসুম চলছে। জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ ভাগ জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করছি, এবার আমন ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com