
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল চলনবিলের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা অংশে অবস্থিত চলনবিলের মান্নান নগর এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। দুই দিনের সফরে চলনবিলসহ নাটোরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফেরার পথে মন্ত্রী সেখানে যান।
পরে দোবিলা ইসলামপুর ডিগ্রি কলেজের হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল চলনবিল। এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য সহজেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে চলনবিল অধ্যুষিত নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন স্থান ও এলাকা পুরাকীর্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ।
তিনি বলেন, চলনবিলের জীববৈচিত্র্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, জলজ পরিবেশ ও ঐতিহ্য জাতীয় সম্পদ। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব সম্পদ সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
আফরোজা খানম বলেন, সম্ভাবনাময় চলনবিলের পর্যটন খাতকে আরও দর্শনীয়, আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। শুধু চলনবিল নয়, সারা দেশের পর্যটন খাতকে আধুনিকায়নের জন্যও বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, চলনবিলের পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন রূপে সাজাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি চলনবিল পরিদর্শনে এসেছেন। এ অঞ্চলে সমন্বিত ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান এবং তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে চলনবিলের পর্যটন সম্ভাবনা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স. ম. আফছার আলী। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান টুটুল।