
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে ভারী হয়ে উঠেছিল পশ্চিম আটঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ। হাসি-কান্না আর স্মৃতিচারণে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে এসে অনেক শিক্ষার্থীর চোখেই দেখা যায় অশ্রুসজল বিদায়ের ছাপ।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আটঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকারকে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বেলাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম আবু জুবায়ের ও জহুরা তহুর।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন পশ্চিম আটঘরিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পংকজ তালুকদার, নিমগাছী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ এবং কুড়মালি ভাষার লেখক ও গবেষক উজ্জ্বল কুমার মাহাতো। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষকের প্রকৃত অর্জন শুধু চাকরির মেয়াদে নয়, তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের জীবন ও ভবিষ্যতের মধ্যেই নিহিত থাকে। আব্দুল মতিন সরকার দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ও পাঠদানের প্রতি নিষ্ঠা সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁকে একজন প্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে।
বিদায়ী বক্তব্যে আব্দুল মতিন সরকার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা জীবন শেষ করতে পেরেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষার্থীরাও স্মৃতিচারণ করে। তারা বলে, আব্দুল মতিন সরকার স্যার অত্যন্ত যত্ন ও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের পড়াতেন। কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়লে তিনি আলাদাভাবে বুঝিয়ে দিতেন। তাঁর স্নেহ ও শাসন তাদের কাছে ছিল আপনজনের মতো।
শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে প্রিয় শিক্ষকের প্রশংসা আর সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে বিদায় দিতে গিয়ে অনেকের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে।
পরে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। কর্মজীবনের শেষ দিনে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদ্যালয় ছাড়েন তিনি। তবে তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে তাঁর শিক্ষকতার স্মৃতি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা উপস্থিত সবার।রায়গঞ্জে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিনের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা