
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র বেগনাই বাজারের একমাত্র হাটসেডটি দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির মৌসুমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ ক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের একমাত্র হাটসেডটির টিনের চাল মরিচা ধরে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে ঝুলে পড়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে সেডের নিচে পানি জমে থাকছে এবং ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি সরাসরি ভেতরে পড়ছে। এতে সবজি, মাছ, মুদি পণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বসা ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি জরাজীর্ণ কাঠামোটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন তারা।
বাজারের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, “আগে এই শেডের নিচে নিরাপদে ব্যবসা করা যেত। এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই পণ্য ভিজে নষ্ট হয়। আবার কাঠামোটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, ভয় নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্রামীণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পাঙ্গাসী ইউনিয়নের আশপাশের গ্রামের প্রান্তিক কৃষকদের উপজেলা সদর বা বড় বাজারে গিয়ে পণ্য বিক্রির সুযোগ সীমিত। ফলে বেগনাই বাজারই তাদের প্রধান ভরসা। কিন্তু হাটসেডটি অকেজো হয়ে পড়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কয়েক বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিক এবং লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ অল্প ব্যয়ে হাটসেডটি সংস্কার করা গেলে কয়েকশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে দ্রুত সংস্কার বা নতুন হাটসেড নির্মাণ না করা হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।