
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আলোচিত ১০ বছর বয়সী শিশু মরিয়ম খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আবুল হোসেন নামে একজনের মৃতৃদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোত্তাগীর আলম। রায়ের পর তাকে কঠোর পুলিশ প্রহরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের দুই মেয়ে মরিয়ম খাতুন (১০) ও আছিয়া খাতুন (৮) প্রতিবেশী শিশু হুযাইফা (৭) ও সিনহা খাতুনকে নিয়ে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। দুপুর ১২টার দিকে আছিয়া ও তার সঙ্গীরা বাড়ি ফিরে তাদের মাকে জানায়, মাঠে শাক তোলার সময় এক ব্যক্তি রাস্তার ওপর ভ্যান রেখে তাদের কাছে আসে। সে মরিয়মকে শাক তুলে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুট্টা ক্ষেতের দিকে নিয়ে যায় এবং বাকিদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলে। দীর্ঘ সময় পর লোকটি একা ফিরে এলে মরিয়মের কথা জানতে চাইলে সে জানায়, মরিয়ম একটু পরেই আসবে। সন্দেহ হলে মরিয়মের মা ও প্রতিবেশীরা মাঠের দিকে গিয়ে স্থানীয় আলী হোসেনের ভুট্টা ক্ষেতে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম তদন্ত শেষে উপজেলার গয়েশপুর (বড় মসজিদপাড়া) গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
মামলা চলাকালীন আসামি আবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া তার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টও পজিটিভ আসে। মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
গত বুধবার চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক আজ সোমবার (২০ জুলাই) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। চার্জশিট, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও ডিএনএ রিপোর্টসহ নানা তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী ছিলেন ওহিদুজ্জামান মুকুল।