
ন্যাশনাল ডেস্কঃ
সারের সংকট নিরসনে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় তদারক করার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, সারের কোনো সংকট নেই, তবে সরবরাহব্যবস্থায় যারা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে তাদের বিচার করা হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ বিধিতে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় সংসদ সদস্যকে স্পষ্টভাবে বলছি, যাহা বলিতেছি সত্য বলিতেছি, সত্য বলিতেছি এবং সত্য বলিতেছি।’
আখতার হোসেনের নোটিশের বিষয় ছিল, সারের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, বিতরণ অব্যবস্থাপনা ও সরকারের কাঠামোগত দায়বদ্ধতা নিরূপণপূর্বক কৃষকদের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ।
নোটিশ উত্থাপনের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিনকে উদ্দেশ করে বলেন, মৃত ব্যক্তিরা যারা সারের ডিলার ছিলেন, তাদের নামে এখনো ডিলারশিপ আছে। এক ইউনিয়নের বা অন্য জেলার মানুষ সারের ডিলার ছিলেন, সেটিও এখনো আছে। ন্যায্যমূল্যের বিষয়ে আখতার হোসেন তার আসনের কথা বলেছেন উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তিনিও তার নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরে খোঁজ নিয়ে একই অবস্থা পেয়েছেন। এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চান তিনি।
জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সারের মূল্য বৃদ্ধি রোধের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যক্রম চলমান আছে।
সম্পূরক প্রশ্নে সারের প্রকৃত মজুত কত, তা জানতে চান আখতার হোসেন। জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় সংসদ সদস্যকে স্পষ্টভাবে বলছি, যাহা বলিতেছি সত্য বলিতেছি, সত্য বলিতেছি এবং সত্য বলিতেছি। এই মুহূর্তে প্রায় ১৩ লাখ টন সার মজুত আছে। যা গত বছরে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১২ লাখ টন, তখন কিন্তু ঘাটতি হয় নাই। পাইপলাইনে আছে আরও ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮শ টন।’
আখতার হোসেনের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্ট মাসে রংপুরে সার সরবরাহ করা হয়েছিল ১০ হাজার ৫৯০ টন। একই সময়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরবরাহ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৮৪৭ টন।
তিনি বলেন, ‘আপনি চাইলে প্রিন্ট করা কাগজটা আপনাকে দিয়ে দেব। আমি আগেই বলছি যাহা বলিতেছি সত্য বলিতেছি। কৃষি নিয়া মিথ্যা কথা কন যায় না। এইটা খাই আমরা। এইখানে মিছা কথা কইলে বড় কঠিন কাম সম্ভব না।’
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সারের কোনো ক্রাইসিস নাই।’ তবে দেশে সার উৎপাদন বহু বছর ধরেই প্রয়োজনের তুলনায় কম হচ্ছে। দেশে মূলত ইউরিয়া সারই উৎপাদিত হয়। অন্য সার খুব কম পরিমাণে উৎপাদিত হয়, মাত্র এক লাখ টন।’
সূত্রঃ দৈনিক কালবেলা।