1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন

মাছের সংকটে ফাঁকা চলনবিলের শুঁটকি পল্লী

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ Time View

 

 

 

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি।

 

 

একসময় বর্ষা এলেই চাতালজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত মাছের সারি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত মাছ কাটা, ধোয়া, মসলা দেওয়া ও শুকানোর ব্যস্ততা। শ্রমিকদের হাঁকডাক আর ব্যবসায়ীদের কেনাবেচায় মুখর থাকত পুরো এলাকা। তবে এবার সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। পর্যাপ্ত মাছের সরবরাহ না থাকায় অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি পল্লী। মাছের অপেক্ষায় অলস সময় কাটছে চাতাল ও আড়তের শ্রমিকদের।

 

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চলনবিলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মাছ সংগ্রহ করে এসব চাতালে শুঁটকি তৈরি করা হয়। এ সময় স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে তা প্রক্রিয়াজাত করে শুকানো হয়। পরে এসব শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়। শুঁটকি উৎপাদনকে ঘিরে জেলে, চাতাল মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ কয়েকশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকার সুযোগ পান।

 

কিন্তু চলতি মৌসুমে মাছের সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শুঁটকি উৎপাদন। চাতালগুলোতে মাছ শুকানোর জন্য বাঁশের মাচা, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকলেও অনেক জায়গায় সেগুলো তেমন কাজে আসছে না। মাছের অভাবে পড়ে আছে খালি চাতাল। এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে কাজ কমে যাওয়ায় আয়-রোজগার হারাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ।

 

শুঁটকি চাতাল মালিক মজনু আলী বলেন, “আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাছের সরবরাহ থাকলে চাতালে দিন-রাত কাজ চলে। এখন মাছ কম থাকায় উৎপাদনও কমে গেছে। এভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মাছের সরবরাহ কম থাকায় কাঁচামালের দাম ও উৎপাদন ব্যয় দুটোই তাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। শুঁটকি উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহও কমে যায়। এতে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের কাজের সুযোগ কমে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ে।

 

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, চলনবিলে মাছের উৎপাদন ও সরবরাহের বিষয়টি মৎস্য বিভাগের নজরদারিতে রয়েছে। মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলনবিল শুধু মাছের আধার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। শুঁটকি পল্লীর প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রাখতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানো, অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও চাতালগুলোতে মাছের সারি, শ্রমিকদের ব্যস্ততা আর শুঁটকি তৈরির কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে—এমন প্রত্যাশা ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com