
মো: আব্দুর রহীম মিঞা, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার: বাড়ছে প্রতারণা । টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে প্রতারণ হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না সাধারণ জনসাধারণসহ সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারী। প্রতারণা প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের জীবন যেমন সহজ হচ্ছে, তেমনি নতুন নতুন প্রতারণার কৌশলও উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এমন ঘটনায় সর্তক বার্তা লিখে ফেসবুক পেইজে টেটাস দিলেন উপজেলা নির্বাহীকর্তা। এক সময় প্রতারকরা শুধুমাত্র ফোন কল বা ভুয়া বার্তার মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলত। এখন তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে পরিচিত মানুষের কণ্ঠস্বর, ছবি এমনকি ভিডিও নকল করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করছে। ফলে প্রতারণার ধরন আরও জটিল ও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। কখনো তারা জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা চায়, কখনো বিকাশ, নগদ বা রকেট নম্বরে অর্থ পাঠাতে অনুরোধ করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে OTP, PIN নম্বর বা ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহ করে মুহূর্তের মধ্যেই মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
AI প্রযুক্তির কারণে এখন প্রতারকদের তৈরি করা কণ্ঠস্বর বা ভিডিও অনেক সময় আসল মানুষের মতোই শোনায় ও দেখায়। ফলে শুধু কণ্ঠস্বর শুনে বা ছবি দেখে কাউকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা মানুষের আবেগ, বিশ্বাস এবং অসতর্কতাকে পুঁজি করে অপরাধ সংঘটিত করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সতর্ক বার্তায় লিখেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোনে ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা, বিকাশ/নগদ/রকেট নম্বরে অর্থ প্রেরণ, OTP, PIN বা গোপনীয় আর্থিক তথ্য চাইবেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা কখনো ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা পাঠাতে বলেন না এবং ফোনে OTP, PIN বা গোপন আর্থিক তথ্যও চান না। তাই এ ধরনের কোনো অনুরোধ পাওয়া মাত্রই সতর্ক হতে হবে। পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর মনে হলেও অচেনা নম্বর থেকে অর্থ চাওয়া হলে তা যাচাই না করে কোনো লেনদেন করা উচিত নয়।
সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো” মাহবুব হাসান তার ভেরিফাইড পেইজে সতর্কমূলক বার্তা পোস্ট করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, সন্দেহজনক কোনো ফোন কল বা বার্তা পেলে শান্ত থাকুন এবং তথ্য যাচাই করুন। দ্বিতীয়ত, অচেনা কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য কখনো অপরিচিত ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করবেন না। চতুর্থত, প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
প্রতারকরা সবসময় মানুষের অসতর্কতার সুযোগ খোঁজে। তাই প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা। পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে কম জানেন এমন ব্যক্তিদের এসব প্রতারণা সম্পর্কে অবহিত করা জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার ইউএনও ভূঞাপুর ভেরিফাই পেইজে লিখেন অচেনা নম্বর থেকে আসা সন্দেহজনক ফোন কল, SMS, WhatsApp/Messenger বা অন্যান্য অনলাইন বার্তার কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না এবং ব্যক্তিগত/আর্থিক তথ্য প্রদান করবেন না।
প্রতারণার চেষ্টা বা প্রতারণার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর, কল রেকর্ড, SMS, চ্যাট, স্ক্রিনশট, লেনদেনের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
মনে রাখতে হবে, একটি ফোন কল, একটি বার্তা বা একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনার আর্থিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন নয়—এই হোক সবার অঙ্গীকার। কারণ, প্রতারণা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।