
মালিকুজ্জামান, যশোরঃ
যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী মো. হারুন অর রশিদ (৬২)। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়। হারুন অর রশিদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর ছোট ভাই ও ৪ নম্বর নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাশিমপুর বাজারে পূর্বের লেনদেনকে কেন্দ্র করে হারুন অর রশিদের ছোট ভাই তুহিন বাবুর সঙ্গে আওয়াল হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
হারুন অর রশিদের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে একরামুল হোসেন, আওয়াল হোসেন ও একরামুলের ছেলে সাকিলসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র ও লোহার পাইপ নিয়ে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজির বিশ্বাস স্টোর ও মেসার্স সোনা ভ্যান স্টোরে হামলা চালায়। এ সময় দোকানের মালামাল, আসবাবপত্র এবং দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা পরে তাঁদের বসতবাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যায়। যাওয়ার সময় তাঁরা প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
হারুন অর রশিদ জানান, এ ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এ সময় সাবেক ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, তাঁরা বিএনপির নিবেদিত কর্মী। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের একটি অংশ বিরোধিতা ও হয়রানি করছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে হারুন অর রশিদের ছোট ভাই তুহিন বাবু, চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।