
সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনা শহরের বড়বাজার এলাকায় একটি ক্রোকারিজের দোকান থেকে আগুন ছড়িয়ে অন্তত সাতটি দোকান ও বাসাবাড়ি পুড়ে গেছে। শুক্রবার রাতে ঘটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী ও রেড ক্রিসেন্টের দুই স্বেচ্ছাসেবক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাতে বড়বাজারের একটি ক্রোকারিজের দোকান থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকান ও বাসাবাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তৈরি হয় আতঙ্ক। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সরে যান নিরাপদ স্থানে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের চার থেকে পাঁচটি ইউনিট। তাদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রায় তিন ঘণ্টা টানা চেষ্টা চালানোর পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। অগ্নিকাণ্ডে ভূঁইয়া প্লাজা, মজুমদার ইলেকট্রনিক্স ও ক্রোকারিজ, হ্যালো ফুচকাসহ অন্তত সাতটি দোকান ও বাসাবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল পুড়ে গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
নেত্রকোনা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানান, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ফায়ার সার্ভিসের চার থেকে পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। মানুষের ভিড়ের কারণে কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। পানির পাইপ সুরক্ষিত রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী ও রেড ক্রিসেন্টের দুই স্বেচ্ছাসেবক আহত হন। পরে তাদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান,পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার। এ সময় আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজ করতে দেখা যায়। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় বিভাগগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খুঁজে বের করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।’প্রাথমিকভাবে একটি ক্রোকারিজের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেলেও কীভাবে আগুন লেগেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।