
খ ম জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া)প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন।নিহতের স্বজনদের দাবি, তাকে শ্বাশরোধে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়েছে তার স্বামী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুলিকুন্ডা গ্রামের হিন্দু পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত গৃহবধূর নাম ঊষা রাণী দেবনাথ (২৮)।
তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুলিকুন্ডা গ্রামের মনোরঞ্জন দেবনাথের মেয়ে। স্বামীর নাম নারায়ণ দেবনাথ। তিনি বুড়িশ্বর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের বিনোদ বিহারী দেবনাথের ছেলে। বিয়ের পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তিনি বর্তমানে কুলিকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের বিনোদ বিহারির ছেলে নারায়ণ দেবনাথের সঙ্গে ঊষা রাণী দেবনাথের বিয়ে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নারায়ণ দেবনাথ নেশায় আসক্ত ছিল। নেশার টাকা যোগাতে না পেরে এবং দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি ও শারিরীক নির্যাতন করতো।মাঝে মাঝে তা হাতাহাতির পর্যায়েও পৌঁছাত।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেশীরা জানতে পারেন ঘরের বিছানায় ঊষা রাণী দেবনাথের মরদেহ পড়ে আছে এবং তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। অন্যদিকে স্বামী নারায়ণ দেবনাথ মিয়া লাপাত্তা।
স্থানীয় মেম্বার আজম মৃধা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি খবর পান যে, মনোরঞ্জন দেবনাথের ঘরে স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ঊষা দেবনাথের ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে তিনি থানার ওসিকে ফোনে বিষয়টি জানান।তিনি বলেন , “আমরা সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।”
পরিবারের অভিযোগ,নিহতের স্বামী নারায়ণ দেবনাথ মাদকাসক্ত ছিল। মাদকের টাকার জন্য সে ঊষা রাণী দেবনাথকে প্রায়ই মারধর করত এবং মা-বাবার কাজ থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিত। এসব বিষয় নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঊষা রাণীকে শ্বাসরুদ্ধ করে
(গলা চিপে) হত্যা করে নারায়ণ পালিয়ে গেছে। আমি নারায়ণের ফাঁসি চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিরনগর থানার এস আই মাহবুব বলেন,খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত বা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি প্রতিবেদককে জানান।