
শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জে বিনোদনের আড়ালে জমে উঠেছে জুয়ার আসর। চায়ের দোকানে ক্যারাম খেলার নামে চলছে টাকা দিয়ে বাজি ধরা। পাশাপাশি কোথাও কোথাও মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেমেও আসক্ত হয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা। এতে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর সদর, রামচন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চায়ের দোকান ঘিরে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব দোকানের অনেকগুলোতেই ক্যারাম খেলার আড়ালে চলছে জুয়া। চন্দ্রা বাজার, সফিপুর বাজার, কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড ও তেলিপাড়া এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব আসর বসার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রতি গেমে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হয়। হার-জিতের নেশায় কিশোর ও তরুণদের কেউ কেউ নিয়মিত অর্থ হারাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া টাকা, টিফিনের টাকা কিংবা টিউশনির অর্থও জুয়ার পেছনে ব্যয় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু দোকানে ক্যারামের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেম খেলা হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশও ধীরে ধীরে জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুল ফাঁকি দিয়ে কিংবা পরিবারের অজান্তে এসব আসরে সময় কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি জুয়ার বিস্তারও যুবসমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এর ফলে পড়াশোনায় অনাগ্রহ, পারিবারিক অশান্তি ও আর্থিক সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই জুয়ার আসর বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, “আমাদের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এখন নিয়মিত ক্লাসে আসে না। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তারা চন্দ্রা-সফিপুর এলাকার বিভিন্ন ক্যারাম বোর্ডে সময় কাটাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে।”
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্যারাম খেলার নামে জুয়ার আসর বসানোর বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ক্যারাম বোর্ডের আড়ালে জুয়া চলার প্রমাণ পাওয়া গেলে বোর্ড জব্দের পাশাপাশি জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এসব জুয়ার আসর বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান, চায়ের দোকানগুলোতে নজরদারি এবং শিক্ষার্থী ও তরুণদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।