
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী ও তাঁর স্বামীকে মারধর, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী হোসনে আরা (৫৪) গত ১৬ আগস্ট ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ফতেপুর এলাকায় নিজ বসতবাড়িতে যাওয়ার পথে একই এলাকার মোছা. খাদিজা আক্তার (৩৩) ও মো. জহিরুল ইসলাম (৫২) তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে দাবি করেন হোসনে আরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম হোসনে আরার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন টেনে ছিঁড়ে নিয়ে যান। চেইনটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চেইনটি উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাঁকে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া খাদিজা আক্তার তাঁর দুই কানে থাকা প্রায় ৪ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের দুল নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় জহিরুল ইসলাম তাঁর হাতে থাকা একটি আইটেল বাটন ফোন মাটিতে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হোসনে আরার স্বামী হাবিবুর রহমানকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে অভিযুক্তরা বসতঘর থেকে ধারালো দা নিয়ে তাঁদের ধাওয়া করেন বলে জানান হোসনে আরা। এ সময় তাঁরা নিজেদের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন। তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোসনে আরার দাবি, যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে তাঁদের মারধর ও হত্যার হুমকি দেন এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার ভয় দেখান।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত হোসনে আরা ও তাঁর স্বামীকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে হোসনে আরার ছেলে উৎসব বলেন, তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাঁর বাবা-মা বাড়িতে থাকেন। তাঁদের ওপর হামলার খবর শুনে তিনি উদ্বিগ্ন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ঘটনায় হোসনে আরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।