
আব্দুল কাইয়ুম কামরুল,মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বিদায় নিলেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বেলা রানী দেব। প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কর্মজীবনের শেষ দিনে ব্যতিক্রমী আয়োজনে প্রিয় শিক্ষিকাকে বিদায় জানান তাঁর সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ফুলে সজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে বেলা রানী দেবকে বিদায় দেওয়া হয়। এমন আয়োজন ঘিরে বিদ্যালয়ে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘদিনের পরিচিত শিক্ষককে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকেরাও।
১৯৮৭ সালে এই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন বেলা রানী দেব। দীর্ঘ সময়ে বদলেছে শিক্ষার্থীদের প্রজন্ম, বদলেছে বিদ্যালয়ের নানা চিত্র; তবে শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধে ছিল ধারাবাহিকতা। পাঠদানের পাশাপাশি শিশুদের স্নেহ ও যত্ন দিয়ে আপন করে নেওয়ায় তাঁদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রিয় একজন শিক্ষক।
সহকর্মীরা জানান, দায়িত্ব পালনে বেলা রানী দেব ছিলেন আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান। দীর্ঘ সময় একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করায় বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও হয়ে উঠেছিল পরিবারের মতো। ফলে তাঁর অবসর শুধু একজন শিক্ষকের বিদায় নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক সহকর্মী ও অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে হারানোর অনুভূতি তৈরি করেছে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে, শিক্ষকতার চাকরি শেষ হলেও একজন শিক্ষকের দেওয়া শিক্ষা ও ভালোবাসার প্রভাব শেষ হয় না। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে গেলেও তাঁদের জীবনের শুরুর দিনগুলোর শিক্ষকরা স্মৃতিতে থেকে যান। বেলা রানী দেবের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বিদায় অনুষ্ঠানে নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বেলা রানী দেব। তিনি জানান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। চার দশক ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে বিদায়ের মুহূর্তে এত আয়োজন ও মানুষের ভালোবাসা পাবেন, সেটি তাঁর কল্পনাতেও ছিল না।
ফুলে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদ্যালয় ছাড়ার মুহূর্তে তৈরি হয় আবেগঘন দৃশ্য। কর্মজীবনের সমাপ্তি হলেও দীর্ঘ চার দশকে বেলা রানী দেব যে সম্পর্ক ও স্মৃতি তৈরি করেছেন, তা তাঁর প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে