
দৃশ্যপট ডেস্ক
আফরুনা খানম কাশ্মিরী কেবল একজন পেশাদার শিক্ষক নন, তিনি শিক্ষক সমাজের আলোর দিশারী। ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং মেধা-মননের উজ্জ্বল সমন্বয় তার পুরো জীবনজুড়ে প্রতিফলিত হয়েছে। তার জন্ম সোনাখাড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী তালুকদার বাড়িতে। তার দাদা সোনাখাড়া ইউনিয়নের একটানা ২২ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে বাবাও চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৮৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত রুপাখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই মেধাবী আফরুনা খানমের হাতেখড়ি। তিনি ১৯৮৪ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হৈমবালা বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিরাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকার লালমাটিয়া কলেজ থেকে বিকম পাস করে এসে ১৯৯০ সালে সোনাখাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই স্বেচ্ছায় পাঠদান শুরু করেন। তার নিষ্ঠাবান শিক্ষাদানের ফলে প্রথম বছরেই সেই স্কুল থেকে একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে, যা তার শিক্ষাদান দক্ষতার অন্যতম উজ্জ্বল প্রমাণ।
১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত রুপাখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে তিনি যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষে পিটিআই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছিল তার শেষ কর্মদিবস। সব মিলিয়ে তার কর্মকাল ৩০ বছর ২ মাস।
রুপাখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি কেবল পাঠদান করেননি, বরং প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ও গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। প্রায় ১০ বছরের অধিক সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন আলোকিত করে তিনি তাঁর সফল কর্মজীবনের ইতি টেনেছেন। তিনি এলাকার শিক্ষাঙ্গনে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। এমন আদর্শ শিক্ষকের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। আমি তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
লেখক: ড. খ. ম. রেজাউল করিম , অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান, সরকারি ব্রজলাল কলেজ, খুলনা।