
শরীফুল আলম,ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে চোরাচালানের অভিযোগে ভারতীয় তৈরি কম্বল, ডাব সাবান ও অলিভ অয়েলসহ একটি ছয় চাকার ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকে থাকা দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্য, ট্রাক ও অন্যান্য সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮০ টাকা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে একইদিন ভোরে উপজেলার আঠারবাড়ী-গাবরখালিয়ান এলাকায় জুয়েল টেলিকম অ্যান্ড ফার্মেসির সামনে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঈশ্বরগঞ্জ থানার রায়েরবাজার তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা বিশেষ অভিযান ও ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্বে ছিলেন। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চেকপোস্টে একটি মাঝারি আকারের ছয় চাকার ট্রাক আসতে দেখে পুলিশ সেটি থামায়। পরে ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় তৈরি পণ্য পাওয়া যায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাকে থাকা ব্যক্তিরা এসব পণ্যের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পাশাপাশি পণ্যগুলোর বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জব্দ তালিকা অনুযায়ী, ট্রাক থেকে ৩৯০ পিস সিঙ্গেল পার্টের ভারতীয় কম্বল, ৮৭ পিস ডাবল পার্টের ভারতীয় কম্বল, ১০০ মিলিলিটারের ডাব সাবান ১ হাজার ৭৪০ পিস, ৭৫ মিলিলিটারের ডাব সাবান ৪৩২ পিস, ৫০ মিলিলিটারের ডাব সাবান ৩৬০ পিস এবং ২০০ মিলিলিটারের অলিভ অয়েল ৯৮৪ পিস জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া পণ্য বহনে ব্যবহৃত একটি পুরোনো ছয় চাকার মাঝারি ট্রাক ও একটি পুরোনো অপো মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রীসহ ট্রাকটির মোট আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮০ টাকা।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—নেত্রকোনা সদর উপজেলার মালনী এলাকার মৃত হোসেন মিয়ার ছেলে ফেরদৌস মিয়া (৩২) এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তেলুয়ারী এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে মামুন হাসান অভি (৩৫)। মামলার এজাহারে আজাদ নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা থানার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কাছ থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ করে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তারা। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হতো বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ঈশ্বরগঞ্জ থানার রায়েরবাজার তদন্তকেন্দ্রের এসআই (নিঃ) মো. আজিজুল হক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কাশেম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় তৈরি পণ্যসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকে থাকা দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা পণ্যগুলোর বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।