
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে চলমান মামলা তুলে না নেওয়ায় এক নারীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী হেপি আক্তার (৩৯)।
হেপি আক্তার মোহনগঞ্জ উপজেলার শুকদেবপুর গ্রামের লাল মিয়ার মেয়ে। অভিযোগে একই গ্রামের পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ছয়-সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন প্রতিবেশী কামাল হোসেন (৪২), তাঁর ভাই সেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও মোফাজ্জল (৩৮), তাঁদের ভাতিজা আলীম (২৬) এবং বারহাট্টা উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কামাল হোসেন ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে হেপি আক্তারদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর হেপি আক্তারকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ ওঠে কামালসহ অন্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরদিন হেপির স্বামী বাদী হয়ে কামাল মিয়ার বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
হেপি আক্তারের অভিযোগ, মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে গত ২৫ অক্টোবর অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে কামাল ও তাঁর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় বসতঘরের দরজা-জানালায় কোপানোর পাশাপাশি বাড়িতে থাকা পুরোনো একটি বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
হেপি আক্তার আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আতঙ্কে তাঁরা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শুকদেবপুর গ্রামে গিয়ে হেপি আক্তার ও তাঁর বাবা লাল মিয়াকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে।
প্রতিবেশী আব্দুল বারেক বলেন, আগুন দেওয়ার ঘটনার পর থেকে ওই পরিবারের লোকজন বাড়িতে নেই। তাঁরা কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না।
অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল হোসেন বলেন, পুরো অভিযোগই মিথ্যা। আগুন দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন। প্রতিহিংসাবশত তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। হেপি আক্তারের পরিবার পলাতক নয়, তাঁরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে হেপিদের সঙ্গে তাঁদের সামান্য বিরোধ রয়েছে। এর আগেও তাঁদের বিরুদ্ধে মারধরের মামলা করা হয়েছিল, যা তাঁর দাবি অনুযায়ী মিথ্যা। হেপি আক্তারকে তাঁরা মারধর করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।