
সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বাকিতে সিগারেট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মনোহারি দোকানে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এতে দোকানমালিক ইব্রাহিম খলিল (৪৫) গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ইব্রাহিম খলিল ওই ইউনিয়নের চেংজানা গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি সাহিতপুর বাজারে।মনোহারি ব্যবসা করতেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম সুমন মিয়া। তিনি একই গ্রামের কাদের নেওয়াজের ছেলে।
সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলাম জানান, আগুনে খলিলুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনার বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী সুমন প্রায়ই দোকান থেকে বাকিতে জিনিসপত্র নিয়ে আর টাকা দিতেন না। বৃহস্পতিবার রাতেও তিনি দোকানে এসে খলিলের কাছে বাকিতে সিগারেট চান। তবে খলিল বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
ওসি জানান, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সুমন দোকানের সামনে বিক্রির জন্য রাখা একটি বোতল থেকে পেট্রোল নিয়ে দোকানের ভেতরে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ইব্রাহিম খলিল দগ্ধ হন। ঘটনার পরপরই বাজারের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং খলিলকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করান।
ওসি মো. তরিকুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুমন পলাতক রয়েছেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। দগ্ধ খলিলের স্বজনরা বর্তমানে ঢাকায় তাঁর চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় এলাকা থেকে ফিরে এসে থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন।