
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ভয়াবহ আগুনে বিধবা এক নারীর দুটি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পাশাপাশি ছেলের বিয়ের জন্য জমানো নগদ দেড় লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকারও পুড়ে গেছে। এতে পরিবারটির প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের বাশুড়িয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের বিধবা রেখা বেগমের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ রেখা বেগমের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দুটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে স্থানীয়রা জানান।
রেখা বেগমের স্বামী হারুন অর রশীদ প্রায় ১৩ বছর আগে মারা যান। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে নানা কষ্টের মধ্যে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী জিন্নার বিয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কিছু টাকা ও স্বর্ণালংকার জমিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর সেই সঞ্চয়ও পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বজন মোছা. রনি বেগম বলেন, ‘গহনাসহ বিধবা রেখার রাখা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ—সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেখা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বেঁচে থাকলে হয়তো এই কষ্ট সহ্য করতে পারতাম। বড় ছেলের বিয়ের জন্য নগদ দেড় লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার রেখেছিলাম। গত রাতে স্বপ্নে দেখেছিলাম আমার ঘর পুড়ে গেছে। কিন্তু সেটি সত্যি হবে, ভাবতেও পারিনি। নিমিষেই আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তাঁরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার ফোন করেন। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের দাবি। পরে রায়গঞ্জ থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশের পক্ষ থেকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত বন্ধ করা সম্ভব হলে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো যেত। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক, খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু হারিয়ে বর্তমানে অসহায় অবস্থায় রয়েছে পরিবারটি। স্বজনদের দাবি, সব মিলিয়ে তাঁদের প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো বিধবা রেখা বেগমের পরিবারটি এখন ঘর পুনর্নির্মাণ ও সংসার চালানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।