
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
সারাদেশে একযোগে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এবছর ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ৭৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭০১ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৭ জন। ফলাফলে উপজেলায় পাসের হারে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে দর্শনার কেরু মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিল। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৪২ জনের মধ্যে ১৩৮ জন কৃতকার্য এবং ৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। কাঙ্খিত ফল অর্জন করতে পেরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বোর্ডে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত ফল দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে কাঙ্খিত ফল পাওয়ার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরা আনন্দে কেঁদে ফেলেন।
দর্শনা কেরু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম জানায়, এবার এসএসসি পরীক্ষায় তাদের প্রতিষ্ঠানের পাশের হার ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। এছাড়া মোট ১৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিল।পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৪২ জনের মধ্যে ১৩৮ জন কৃতকার্য, তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন। এবং ৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে।
একাধিক অভিভাবকরা বলেন, দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিদ্যালয়ের সভাপতি রাব্বিক হাসান-এর দিকনির্দেশনায় শিক্ষক-অভিভাবক সম্পৃক্ততা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নানান উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম,সঠিক দিক-নির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, গাইড টিচারের মাধ্যমে নিয়মিত হোম ভিজিট, টিউটেরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষার কারণেই এ ভাল ফল অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, “স্যারের ইনোভেটিভ চিন্তা-চেতনা, সময়োপযোগী সঠিক দিক নির্দেশনায় আমারা ভালো ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। আর এক শিক্ষার্থী রিফাত রহমান বলেন, আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এতো কঠোর পরিশ্রম করেন, যেখানে ভালো ফলাফল করতে বাধ্য।
দর্শনা কেরু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি রাব্বিক হাসান বলেন, কেরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দর্শনা এলাকার সন্তানদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলে জাতি গঠনে অনন্য অবদান রাখবে। এ দায়িত্ব আমার কাছে একটি অঙ্গীকার। বিদ্যালয়কে আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি । “আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভাল ফলাফল করছে। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৪২ জনের মধ্যে ১৩৮ জন কৃতকার্য, তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন। একজন অনুপস্থিত ছিল। এবং ৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। আগামীতে আরও ভালো কিছু হবে, সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
দামুড়হুদা একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় মাধ্যমিক, দাখিল ও ভোকেশনাল মিলিয়ে মোট ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। মাধ্যমিক ও ভোকেশনালের ফলাফল তুলনামূলক ভালো হলেও মাদ্রাসার ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি। বিশেষ করে দুটি দাখিল মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় বিষয়টি দুঃখজনক। আগামী বছর ফলাফল আরও ভালো করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।