1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

অটোভ্যান চুরির একমাত্র সাক্ষী হওয়ায় শিশুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ Time View

 

 

ন্যাশনাল ডেস্ক 

 

 

বগুড়ার শেরপুরে নিখোঁজের প্রায় দুই দিন পর রাজু (১১) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অটোভ্যান চুরির একমাত্র সাক্ষী হয়ে যাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

এ ঘটনায় অটোভ্যান চুরি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় শেরপুর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন।

 

 

নিহত রাজু শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের জনক আলমের ছেলে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার রানীরহাট বাজার-সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

 

 

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট একই গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাকিম (২৪) রাজুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাজু মাঝেমধ্যে মুস্তাকিমের ভগ্নিপতির মালিকানাধীন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালিয়ে কৃষিকাজে সহায়তা করত। পুলিশের ভাষ্য, ভগ্নিপতির অটোভ্যানটি চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন মুস্তাকিম। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় রাজুকেও সঙ্গে নেওয়া হয়।

 

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, পরে মির্জাপুর এলাকার পুরোনো অটোভ্যান কেনাবেচার ব্যবসায়ী করিমের কাছে অটোভ্যানটি বিক্রির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাজুকে সঙ্গে দেখে করিম আপত্তি জানান। তখন চুরির একমাত্র সাক্ষী হিসেবে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেন অভিযুক্তরা। পরে রাজুকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার একটি ধানক্ষেতে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রাখা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

 

 

রাজুকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মুস্তাকিমের বাড়িতে যান। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজুর বাবা জনক আলম শেরপুর থানায় মামলা করেন। অভিযোগের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী রায়গঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ি থেকে মুস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকে তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের ধানক্ষেত থেকে রাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে করিমের শ্বশুরবাড়ি থেকে খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় রাখা চুরি হওয়া অটোভ্যানের চারটি ব্যাটারি, দুটি চাকা, চেসিস ও একটি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, শিশুটির মাথা কাদামাটির নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় ছিল। মরদেহে পচন ধরেছিল এবং বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

 

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা মুস্তাকিমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য ছিলেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

 

ওসি এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, শুক্রবার গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ৪ আগস্ট সন্ধ্যা বা রাতেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সময় ও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com