আগষ্ট মাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। চলতি বছরই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করার পরিকল্পনাও রয়েছে ইসির।
শনিবার অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এসব কথা জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ।
এই নির্বাচন শেষ করে সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকারের ভোটের তোড়জোড় শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, বলেন তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন।
ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়ে পড়ে, এই পদের কার্যভার নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বৈঠক করেছেন।
এখন সরকারি দলের ‘প্রার্থী ঠিক হলেই’ দ্রুত তফসিল ঘোষণা করে চলতি মাসের মধ্যে ভোট শেষ করতে চায় নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক রয়েছে শনিবার।
এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন, দলীয় অবস্থান সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এলে তাতে নির্বাচন কমিশনের তৎপরতাও বাড়তে পারে। খুব দ্রুত ভোটের সময়সূচি নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে পারে এ বৈঠক।
সরকারি দল যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই রাষ্ট্রপতি হন বরাবরই। প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত যত দ্রুত হবে, নির্বাচনও দ্রুত করে ফেলবে ইসি।
অগাস্ট মাসের শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের তারিখ রেখে তফসিল (মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রত্যাহারের শেষ সময়) সাজাতে চায় নির্বাচন কমিশন।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের বৈঠকের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যথাসময়ে ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আমরা ‘অবজারভ’ করছি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখি, আমরা প্রস্তুত। পরিস্থিতি বিবেচনা করে যে কোনো সময় তফসিল ঘোষণা করবো আমরা।”
সংবিধান অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। এটি সর্বোচ্চ সময়সীমা; তার আগে যেকোনো সময় নির্বাচন হতে পারে।
ফলে ২২ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের করার সুযোগ থাকলেও অগাস্টেই ভোট শেষ করার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, “সেপ্টেম্বরের আগেই রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হবে। আমাদের স্থানীয় নির্বাচন আসবে। আমাদের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। পরিস্থিতি বুঝে তফসিলের প্রজ্ঞাপন হবে।”
প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে মঙ্গলবার প্রাথমিক আলোচনা সেরে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন।
এখন নির্বাচন কমিশন ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন সংসদ সদস্যরা। সিইসি থাকেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’।
নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে তাতে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার, ভোটের তারিখ ও স্থান থাকবে; সিইসির কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা, প্রার্থী বাছাইয়ে কাজ হলেও ভোটের স্থান হবে সংসদ কক্ষ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদের কক্ষে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।







