
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে এক ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম হয়েছে। পরকীয়ার অভিযোগে স্ত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে উত্তেজনা বা সংঘর্ষে না জড়িয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ উদ্যোগেই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন স্বামী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম রেজার স্ত্রী সুমাইয়া পারভীন (২৫)-এর সঙ্গে রায়গঞ্জ উপজেলার ভূয়াট গ্রামের আউয়াল হোসেনের ছেলে আসাদুল ইসলাম (২৮)-এর দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় বলে জানা গেছে। এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে সেলিম রেজা বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরে তিনি পুনরায় বাড়িতে ফিরে এসে নিজের ঘরে স্ত্রী ও আসাদুল ইসলামকে একসঙ্গে দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। একপর্যায়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সেলিম রেজা বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টেনে স্ত্রীকে তার পছন্দের ব্যক্তির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে সুমাইয়া পারভীন ও আসাদুল ইসলামের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরদিন সকালে নবদম্পতিকে নিজ দায়িত্বে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বিদায় করে দেন সেলিম রেজা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মালেক হোসেন বলেন, পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই আলোচনা ছিল। ঘটনার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সামাজিকভাবে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এ ঘটনায় আমবাড়িয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।