
রাজীব কুমার মালো,ঝালকাঠী প্রতিনিধি
ঝালকাঠির গাবখান চ্যানেল, ধানসিঁড়ি, সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পঞ্চমোহনা এবং ভীমরুলীর ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারা বাজারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিভাগীয় কমিশনারদের পাঠানো জুন ২০২৬-এর দ্বিতীয় পক্ষের পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উত্থাপিত প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী সদয় অনুমোদন করেছেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, গাবখান চ্যানেল, ধানসিঁড়ি নদী, পঞ্চমোহনা এবং ভীমরুলীর বিখ্যাত ভাসমান পেয়ারা বাজারকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সমন্বিত পর্যটন অবকাঠামো, আধুনিক জেটি, নিরাপদ নৌপরিবহন, পর্যটক আবাসন এবং কার্যকর ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে এ সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি।
প্রস্তাবে পঞ্চমোহনা এলাকায় ৮৮ দশমিক ৩৬ একর সরকারি জমিতে “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” এবং Riverine Eco-tourism Hub প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় রিভারফ্রন্ট, ইকো-রিসোর্ট, ভাসমান রেস্টুরেন্ট, কবি জীবনানন্দ দাশকে কেন্দ্র করে সাহিত্য ও গবেষণা কেন্দ্র, লোকজ জাদুঘর, সাংস্কৃতিক মঞ্চ এবং গাবখান চ্যানেল-ধানসিঁড়ি নদীকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং ঝালকাঠির সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, ঝালকাঠির জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ভূমি বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন থাকায় মামলা নিষ্পত্তির পর প্রয়োজনীয় নীতিগত অনুমোদন ও বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঝালকাঠি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় নদীভিত্তিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।