
ছবি: সংগৃহীত
ন্যাশনাল ডেস্ক
আজ ২৮ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস: আসুন, বাধা ভেঙে এগিয়ে যাই।’ এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের পথে বিদ্যমান বৈষম্য, কুসংস্কার ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করে সবার জন্য সমানভাবে পরীক্ষা, টিকা ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হেপাটাইটিস হলো লিভারের প্রদাহজনিত একটি রোগ, যা প্রধানত ভাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ। কারণ, দীর্ঘদিন চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকলে এ দুটি সংক্রমণ লিভার সিরোসিস, লিভার বিকল হওয়া এবং লিভার ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে, যা নবজাতকসহ সব বয়সী মানুষের জন্য নিরাপদ। পাশাপাশি হেপাটাইটিস সি-এর জন্য আধুনিক ওষুধের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীকেই সম্পূর্ণ সুস্থ করা সম্ভব। হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তবে চিকিৎসা ব্যবস্থা সহজলভ্য হলেও এখনো বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়েও তা জানেন না। সচেতনতার অভাব, সময়মতো পরীক্ষা না করা, সামাজিক ভীতি ও স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার অনেককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে দূরে রাখছে। ফলে প্রতিবছর এই প্রতিরোধযোগ্য রোগে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার, নিরাপদ ইনজেকশন গ্রহণ এবং হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা, যথাযথ চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জন অনেকটাই সহজ হবে।