1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হবে না: মির্জা ফখরুল ভূঞাপুরে কৃষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ উদ্বোধন কালিহাতীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় সভা রামগঞ্জে বিশ্বকাপ খেলা দেখতে যেতে নিষেধ করায় স্ত্রীর হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে পাষন্ড স্বামী নাসিরনগর গুনিয়াউকে সড়ক উন্নয়ন  কাজের উদ্বোধন করেন এমপি এম এ হান্নান তাড়াশে চুরির মামলার তিন এজাহারভুক্ত আসামি আটক  সলঙ্গায় মৎস্য আড়ৎ ইজারার দাবিতে মানববন্ধন তাড়াশে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে চায়না জালে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু কালিয়াকৈর একটি বিল থেকে এক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

মেসির অমরত্ব নাকি ইয়ামালের প্রথম

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ Time View

 

 

ন্যাশনাল ডেস্ক 

 

 

নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আশপাশের কথা বাদ দিন। শহরটার প্রাণকেন্দ্রও আমার মন টানতে পারছে না। অবশ্য মনের আর দোষ কি—কিছুটা নির্লিপ্ত, কাজের ফাঁকে স্ন্যাকস খাওয়ার মতো বিশ্বকাপ উত্তেজনায় কার মন ভরে। আর্জেন্টাইনদের পাগলপারা ফুটবলপ্রেম বাদ দিলে ফাইনাল নিয়ে আলাদা কিছু বলার নেই। আবার আছেও। ফিফা বিনোদনের পসরা সাজিয়ে অপেক্ষা করছে। স্পেন তার রক্তিম আক্রোশ নিয়ে প্রস্তুত। লিওনেল মেসি মায়া বিস্তারের অপেক্ষায়। কিন্তু মনের কোণে দেখতে পাচ্ছি আসল উত্তেজনায় ফুটছে বাংলাদেশ। সেই উত্তেজনা একান্তই মেসিনির্ভর বললে ভুল হবে। সত্যিকার স্পেনপ্রেমী বেশি নেই, সেটাও জানি। তবে শত শত ব্রাজিলপ্রেমী সমর্থক আজ তাদের দলে ভিড়ে যাবে। আর্জেন্টিনা ভক্ত আর বিরোধীতে ভাগ হয়ে যাবে বাংলাদেশ। সেই বিরোধ-সংক্ষোভে গলা ফাটানো উত্তেজনার সঙ্গে আসলে কোনো কিছুর তুলনা হয় না।

 

 

 

দেশের আবহ মনে করে, ফাইনালপূর্ব উত্তেজনায় আমিও কাঁপছি। ১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপ কাভার করতে আমেরিকা-কানাডা-মেক্সিকো—তিন দেশ ঘুরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষ দিনে এসে মনে হচ্ছে, জীবন সার্থক। মেসির মায়াবিস্তার দেখলাম। হট ফেভারিট ফ্রান্সের বিদায়ের সাক্ষী হলাম। আজ ফাইনাল, অনন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবো। আমার মতো কালবেলার পাঠকরাও জানেন, বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই স্নায়ুর লড়াই, কৌশলের লড়াই এবং ইতিহাস লেখার সুযোগ। রোববার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনা যখন মুখোমুখি হবে, তখন বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের চোখ থাকবে এই মহারণের দিকে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সেই ফাইনাল নিয়ে চারিদিকে নানা আলোচনা। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশ্বের তাবৎ ছোট-বড় সব গণমাধ্যম ব্যস্ত আর্জেন্টিনা-স্পেনের ম্যাচের বিশ্লেষণে। মোটা দাগে তাদের সেই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মেসি-ইয়ামালদের তারকা খ্যাতি বা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে বিশ্বকাপ জয় করা সম্ভব হবে না কারও। উল্টো কড়া নজর রাখতে হবে তাদের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, কোচদের ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত আর চাপের মাঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্যের ওপর। অনেক ফুটবলবোদ্ধাই আবার রোববারের ফাইনালকে দেখছেন ‘আধুনিক ফুটবলের দুই দর্শনের সংঘর্ষ’ হিসেবে। একদিকে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত, পজিশনাল এবং প্রযুক্তিনির্ভর ফুটবল; অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বাস্তববাদী, লড়াকু ও ম্যাচভিত্তিক কৌশল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কি শিরোপা ধরে রাখতে পারবে, নাকি স্পেন তাদের আধিপত্যের নতুন যুগ শুরু করবে—এই প্রশ্নই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আলোচনার কেন্দ্রে। আধুনিক ফুটবলের দুটি সফল দর্শনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হবে এই ম্যাচ দিয়েই।

 

 

 

 

মাঝমাঠ যার, ম্যাচ হবে তার: আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে ফুটবলবোদ্ধাদের প্রায় সবাই মানছেন, এই ফাইনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধটা হবে মাঝমাঠে। স্পেনের পুরো খেলার ভিত্তি রদ্রিকে ঘিরে সাজানো। তিনি শুধু একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নন; আক্রমণ শুরু করা, বলের গতি নিয়ন্ত্রণ করা, প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ ভেঙে দেওয়া এবং সতীর্থদের সঠিক অবস্থানে রাখার কাজ করতেও দারুণ দক্ষ। বিপরীতে আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে দলে ফিরিয়ে মিডফিল্ডে নতুন ভারসাম্য এনেছে। পারেদেস যদি রদ্রিকে স্বাধীনভাবে খেলতে না দেন, তাহলে স্পেনের পাসিং রিদম দুর্বল হয়ে পড়বে নিশ্চিত। তাই অনেকেই এই দ্বৈরথকেই ফাইনালের ‘ব্যাটল অব দ্য ম্যাচ’ হিসেবে দেখছেন।

 

 

স্পেনের শক্তি—বল দখল, ধৈর্য ও পজিশনাল ফুটবল

 

 

 

স্পেন পুরো বিশ্বকাপজুড়ে প্রতিপক্ষকে বলের পেছনে ছুটতে বাধ্য করেছে। ছোট ছোট পাস, নিখুঁত পজিশনিং এবং ধৈর্য ধরে স্প্যানিশরা আক্রমণ গড়ে তুলেছে দক্ষভাবে। বল হারানোর পর গোটা দল একসঙ্গে প্রেসিং শুরু করে, যাতে প্রতিপক্ষ কাউন্টার অ্যাটাক গড়ে তোলার সুযোগ না পায়। স্পেনের খেলা ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, বল দখল, সফল পাস এবং প্রতিপক্ষের অর্ধে বল পুনরুদ্ধারে এবারের বিশ্বকাপের সেরা দলগুলোর একটি তারা। তাই ম্যাচকে নিজেদের গতিতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তারা অন্য যে কোনো দলের চেয়ে এগিয়ে।

 

 

স্পেনের দুর্বলতা—রদ্রির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

 

 

স্পেনের শক্তির পাশাপাশি এটিই তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কারণ তাদের খেলার কৌশল অনেকটাই রদ্রিকে কেন্দ্র করে তৈরি। গত মৌসুমে রদ্রি চোটে থাকাকালে স্পেন আট ম্যাচে ১৪ গোল হজম করেছিল। অথচ এই বিশ্বকাপে তাকে নিয়ে মাত্র এক গোল খেয়েছে। এ পরিসংখ্যানই জানান দেয়, রদ্রি মাঠে থাকলে স্পেন কতটা সংগঠিত থাকে। তাই আর্জেন্টিনা যদি নিবিড় মার্কিং ও উচ্চ প্রেসিংয়ের মাধ্যমে রদ্রিকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে, তাহলে স্পেনের আক্রমণের ধার কমে যেতে পারে এবং রক্ষণেও ফাঁক তৈরি হতে পারে।

 

 

আর্জেন্টিনার শক্তি—অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা

 

 

আর্জেন্টিনা হয়তো সবসময় বল দখলে এগিয়ে থাকে না, কিন্তু বড় ম্যাচ জেতার মানসিকতা তাদের অন্যতম বড় সম্পদ। স্কালোনির দল জানে কখন ম্যাচের গতি কমাতে হবে, কখন ঝুঁকি নিতে হবে আর কখন দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে হবে। এই বিশ্বকাপেও নকআউট পর্বে তারা বারবার চাপের মুহূর্ত সামলে জয় তুলে নিয়েছে। লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ কিংবা মাঝমাঠের পারেদেস—সবাই নিজেদের ভূমিকা দারুণভাবে করে গেছেন। তাই ম্যাচ শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কখনোই ম্যাচের বাইরে রাখা যাবে না।

 

 

আর্জেন্টিনার দুর্বলতা—রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক

 

 

এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তাদের রক্ষণভাগ। টানা পাঁচ ম্যাচে তারা ক্লিন শিট রাখতে পারেনি। এমনকি জর্ডানের মতো তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষেও গোল হজম করেছে। গোল প্রাপ্তিতে হার অনুযায়ী তারা কিছুটা দুর্ভাগ্যের শিকার হলেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও আগের বিশ্বকাপের মতো আত্মবিশ্বাসী নন। তিনি দলকে গোলের হাত থেকে বাচিয়েছেন মাত্র ৫৬.২৫ শতাংশ, যা শীর্ষ ও সেরা গোলরক্ষকদের তুলনায় অনেক কম। স্পেনের মতো আক্রমণাত্মক ও দ্রুত পাসিং করা দলের বিপক্ষে এই দুর্বলতা বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে মনে করা হচ্ছে।

 

 

গোলরক্ষকদের লড়াই: একপাশে আত্মবিশ্বাস, অন্যপাশে প্রশ্ন

 

 

ফাইনালের মতো ম্যাচে একজন গোলরক্ষকই অনেক সময় নায়ক হয়ে ওঠেন। এই আসরে স্পেনের উনাই সিমন সেই ভূমিকা দারুণভাবে পালন করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র এক গোল হজম করেছেন এবং দলকে গোলের হজমের থেকে রক্ষা করার হার প্রায় ৯০ শতাংশ। বিপরীতে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ সাত গোল হজম করেছেন এবং কয়েকটি ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কোনো সেভই করতে পারেননি। যদিও বড় ম্যাচে তার অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাসের কারণ, তবে বর্তমান ফর্মের বিচারে এই বিভাগে স্পষ্টতই স্প্যানিশরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

 

 

ব্যক্তিগত দ্বৈরথ: রদ্রি বনাম পারেদেস

 

 

ফাইনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত লড়াই এটি। রদ্রি যদি বল পেয়ে সহজে খেলা পরিচালনা করতে পারেন, তাহলে স্পেন পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখবে। অন্যদিকে পারেদেসের কাজ হবে তাকে চাপের মধ্যে রাখা, পাসিং লাইন বন্ধ করা এবং মাঝমাঠে শারীরিক লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা। এই দ্বৈরথে যে জিতবে, তার দল ম্যাচের ছন্দও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

 

 

ব্যক্তিগত দ্বৈরথ: ইয়ামাল বনাম ট্যাগলিয়াফিকো

 

 

১৭ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের একজন। তার গতি, ড্রিবলিং এবং শেষ পাস প্রতিপক্ষকে নিয়মিত সমস্যায় ফেলেছে। আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোর জন্য এটি হবে কঠিন পরীক্ষা। ইয়ামালকে একা সামলানো কঠিন হওয়ায় আর্জেন্টিনাকে সম্ভবত ডাবল মার্কিংয়ের আশ্রয় নিতে হবে।

 

 

ব্যক্তিগত দ্বৈরথ: মার্তিনেজ বনাম স্পেনের সেন্টারব্যাকরা

 

 

লাউতারো মার্তিনেজ এই বিশ্বকাপে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুটি নকআউট ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। বক্সের ভেতর অবস্থান নেওয়ার দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং প্রথম স্পর্শে শট নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে এগিয়ে রেখেছে। স্পেনের সেন্টারব্যাকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তাকে বল পাওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে রাখা। এক মুহূর্তের ভুলও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

 

 

দুই কোচের ট্যাকটিক্যাল লড়াই

 

 

লুইস দে লা ফুয়েন্তে পুরো টুর্নামেন্টে একই ফুটবল দর্শনে আস্থা রেখেছেন—বল দখল, প্রেসিং এবং ধৈর্য। অন্যদিকে লিওনেল স্কালোনি প্রতিপক্ষ অনুযায়ী কৌশল বদলাতে ভালোবাসেন। নকআউট পর্বে তার একাধিক পরিবর্তন সফল হয়েছে। তাই ফাইনালে শুধু খেলোয়াড়দের নয়, দুই কোচের সিদ্ধান্তও ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান পরিসংখ্যানের বিচারে স্পেন কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে এগিয়ে। তারা পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র এক গোল হজম করেছে, যেখানে আর্জেন্টিনা সাত গোল খেয়েছে। রদ্রি মাঠে থাকলে স্পেনের রক্ষণ অনেক বেশি কার্যকর—এটি সংখ্যাও প্রমাণ করছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় অন্যতম সেরা। ফলে বল দখল বনাম সুযোগ কাজে লাগানোর লড়াইটাই ফাইনালের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে।

 

 

কেন ফাইনাল নিয়ে এত আলোচনা?এই ফাইনালকে অনেক বিশ্লেষক ‘আধুনিক ফুটবলের দুই দর্শনের সংঘর্ষ’ বলছেন। একদিকে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত, পজিশনাল এবং প্রযুক্তিনির্ভর ফুটবল; অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বাস্তববাদী, লড়াকু ও ম্যাচভিত্তিক কৌশল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কি শিরোপা ধরে রাখতে পারবে, নাকি স্পেন তাদের আধিপত্যের নতুন যুগ শুরু করবে—এই প্রশ্নই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আলোচনার কেন্দ্রে। তাই অনেকের মতে, এটি শুধু একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল নয়; এটি আধুনিক ফুটবলের দুটি সফল দর্শনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মঞ্চ।

 

 

ফাইনাল মঞ্চের আগের নাটকীয়তা

 

 

ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামছে বিশ্বকাপের। তার আগেই নানা নাটকীয়তা দেখেছে বিশ্ব। প্রতিভায় ঠাসা দল নিয়ে পর্তুগাল ছিল অন্যতম ফেভারিট। কিন্তু কাগুজে বাঘ হয়ে থাকা দলটি শুরু করে হতাশায়, গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়া। দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে গিয়ে স্পেনের কাছে হেরে গেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জামার্নির জন্য এবারের বিশ্বকাপও হয়ে রইল হতাশার। গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা নকআউটের প্রথম ম্যাচেই প্যারাগুয়ের মতো পিছিয়ে থাকা শক্তির কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়। নেদারল্যান্ডসকেও রাখা হয়েছিল ফেভারিটদের কাতারে। দ্বিতীয় রাউন্ডে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে থেমে গেছে টোটাল ফুটবলের জনকরা। বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম আগেই অতীত হয়েছে, নতুনদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পর্বটা লম্বা হয়নি। বিস্ময়কর কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মরক্কো গেল আসরের মতো ফ্রান্সের কাছে হেরে গেছে—২০২২ সালে সেমিফাইনালে, এবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়।

 

 

ডি আর কঙ্গো, ঘানা, সেনেগাল ও কেপ ভার্দে আফ্রিকান ফুটবলের লড়াকু মনোভাব দেখিয়ে বিদায় নিয়েছে। প্যারাগুয়ে ও মেক্সিকোও একটা পর্যায় পর্যন্ত দারুণ লড়াই জমিয়ে তুলেছিল। প্রাক-টুর্নামেন্ট ফেভারিট ফ্রান্সের সেমিফাইনালে নিষ্প্রভ উপস্থিতি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম রহস্য হয়ে আছে। বিভিন্ন দলের উজ্জ্বল ও হতাশার চিত্রের বাইরে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল নানা বিতর্ক। যার সূচনা হয়েছিল মেসির মারাত্মক ট্যাকল দিয়ে। পরবর্তীতে লাল কার্ড, প্রযুক্তির সহায়তায় গোল বাতিল করা এবং ফিফার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহারের ঘটনা সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। কিছু দুরন্ত ম্যাচ, ফেভারিট হিসেবে শুরুর পর হতাশা এবং নানা বিতর্ক পেছনে ফেলে চূড়ান্ত ফয়সালার মঞ্চে এখন ফিফা বিশ্বকাপ।

 

 

পরিসংখ্যান কী বলছে?

 

 

· আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি লড়াইয়ে দুই দলই সমান সমান—১৪ ম্যাচে উভয়েরই ৬টি করে জয়, আর ২টি ড্র। যদিও শেষ ছয় দেখায় স্পেন জিতেছে চারবার। তবে একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচটি—১৯৬৬ বিশ্বকাপে—জিতেছিল আর্জেন্টিনা (২-১)।

 

 

· স্পেনের বিপক্ষে লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত রেকর্ড: ১ জয়, ২ হার, ২ গোল, কোনো অ্যাসিস্ট নেই। সব ম্যাচই ছিল প্রীতি ম্যাচ; সর্বশেষ দেখা ২০১০ সালে।

 

 

· ফাইনালে খেললে ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে মেসি হবেন বিশ্বকাপ ফাইনাল শুরুর একাদশে নামা ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড়।

 

 

· কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ছাড়া এই বিশ্বকাপে স্পেন ও আর্জেন্টিনা—দুই দলই বাকি সব ম্যাচ জিতেছে।

 

 

· আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারলে তারা হবে ইতিহাসের তৃতীয় দল, যারা টানা দুই বিশ্বকাপ জিতবে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ও মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চারটি বড় শিরোপাজয়ী প্রথম দেশ হবে।

 

 

· স্পেন জিতলে তারা ২০০৮ ইউরো ও ২০১০ বিশ্বকাপের পর আবারও ইউরো জয়ের পরের বিশ্বকাপ জয়ী দল হবে—যে কীর্তি সর্বশেষ তারাই গড়েছিল।

 

 

· বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার রেকর্ড এখন আর্জেন্টিনার দখলে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে উরুগুয়ের টানা ১১ ম্যাচের রেকর্ড ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সূত্রঃ দৈনিক কালবেলা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com