1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন

তিস্তার তীর রক্ষা প্রকল্পে লুটপাটের মহোৎসব

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৬ Time View

 

 

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর

 

শত কোটি টাকার প্রকল্পে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।কিন্তু তন্নতন্ন করে খুঁজলেও প্রকল্প এলাকায় দেখা মিলবে না কাজের বিবরণীর সাইনবোর্ড। শত শত শ্রমিক কাজ করলেও তাদের চোখে-মুখে অজানা আতঙ্ক। সংবাদকর্মী দেখলেই যেন পাল্টে যায় দৃশ্যপট: তড়িঘড়ি করে সেচ যন্ত্র চালিয়ে পানি ছিটানো হয় স্লোপিংয়ের বস্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণে গৃহীত ২৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে এভাবেই চলছে অনিয়ম আর দুর্নীতির রাজত্ব।

 

লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার অতি ভাঙনপ্রবণ ১৯ কিলোমিটার এলাকায় দুই দফায় শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে তীব্র ক্ষোভ। বিশেষ করে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ৩ কিলোমিটার অংশে দুর্নীতির চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। বিদ্যানন্দের ডাংরাহাট, গাবুরহেলান ও রামহরি এলাকার প্যাকেজগুলোতে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কাই করছেন না ঠিকাদাররা।

দায়িত্বরতদের মধ্যে এক ধরণের অদ্ভুত লুকোচুরি খেলা লক্ষ্য করা গেছে। সাংবাদিক বা বাইরের কাউকে দেখলেই তারা সতর্ক হয়ে যান,যা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী বালু সিমেন্টের প্রতিটি জিও ব্যাগের ওজন ১৭৫ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। গত ফেব্রুয়ারি হতে উপজেলার রামহরি মৌজায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বস্তার ওজন ১৪২ থেকে ১৪৯ কেজির মধ্যে।

গাবুরহেলান এলাকায় গত সোমবার ১১ই মে দুটি বস্তা ডিজিটাল মেশিনে ওজন করে একই ধরণের ঘাটতি পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,বস্তার ওজন তো কম দেওয়া হচ্ছেই,এমনকি প্রতিটি বস্তায় সিমেন্টের যে পরিমাণ থাকার কথা, তাও দেওয়া হচ্ছে না।

এভাবে কাজ হলে আগামী বর্ষায় এই বাঁধ বালির বাঁধের মতোই ধসে যাবে।

 

অভিযোগ উঠেছে,প্রকল্পের কাজের নামে নদী থেকে বালু তুলে তা বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছে ওই কাজের লেবার সর্দার আব্দুস সালামের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

গাবুর হেলান এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, এখানে রীতিমতো পুকুর চুরি হচ্ছে।

নিম্নমানের সিমেন্ট-বালু ব্যবহারের পাশাপাশি স্লোপিংয়ের দৈর্ঘ্যও কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে,জিও ব্যাগ স্লোপিংয়ে লেপিং গ্যাপ করা হচ্ছে। দুর্নীতির মাত্রা এতোটাই চরম আকার ধারণ করেছে যে,ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াসামে এলাকাবাসীর তোপের মুখে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার নিম্নমানের জিও ব্যাগ চলমান প্রকল্পের বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে দু:খজনক বিষয় তিস্তার তীর সংরক্ষণ চলমান কাজের বিষয়ে এসডি মইদুল ইসলামের কাছে সাংবাদিক তথ্য চাইলে তিনি তথ্য দিতে গড়িমসি করেন।

সাংবাদিক অফিসে দেখা করতে চাইলে তিনি অফিসে ডাকেন পরে সাংবাদিক অফিসে গিয়ে দেখেন তিনি অফিসে নেই।

এবিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম সাংবাদিক কে জানান তিস্তানদীর তীর সংরক্ষণ কাজের অনিয়মের খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে এসডি কে পাঠিয়েছি,অনিয়মের সত্যতা পেলে সেন্ট সিমেন্টের বস্তা প্রয়োজনে বাতিল করে দিবো।

স্থানীয়দের অভিযোগ এভাবে কাজ চলতে থাকলে আগামী বর্ষায় নদী ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়বে। স্থানীয়রা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com