
অনলাইন দৃশ্যপট ডেস্ক
দৈনন্দিন জীবনে ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়া বা আঘাত পাওয়া খুব সাধারণ বিষয়। রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে আঙুল কাটা বা রাস্তায় হাঁটার সময় কোনো মরচে ধরা ধাতব বস্তুর সঙ্গে ঘর্ষণ—এমন ঘটনা আমাদের সাথে প্রায়ই ঘটে। তবে এই সাধারণ আঘাতই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে যদি সঠিক সময়ে ‘টিটেনাস’ প্রতিষেধক না নেওয়া হয়।
টিটেনাস কেন বিপজ্জনক?
টিটেনাস মূলত Clostridium tetani নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে হয়, যা সাধারণত ধুলোবালি, মাটি এবং পশুর বর্জ্যে পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়া শরীরের ক্ষত দিয়ে প্রবেশ করে দ্রুত স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং এক ধরনের শক্তিশালী বিষ বা ‘টক্সিন’ নিঃসরণ করে। এর ফলে পেশিতে প্রচণ্ড খিঁচুনি, চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া (যাকে ‘লক-জ’ বলা হয়) এবং শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, একবার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে এর কোনো সম্পূর্ণ নিরাময় নেই এবং আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশের মৃত্যু ঘটে।
কত সময়ের মধ্যে টিকা নিতে হবে?
লুধিয়ানার ফোর্টিস হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মনদীপ সিং জানান, যেকোনো আঘাত বা ক্ষতের পর যত দ্রুত সম্ভব টিটেনাস ইনজেকশন নেওয়া উচিত। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম:
সাধারণ ক্ষেত্রে: আঘাত পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
গুরুতর ক্ষেত্রে: ক্ষত যদি গভীর হয় কিংবা ক্ষতস্থানে কাদা, মাটি বা মরচে ধরা বস্তুর সংস্পর্শ থাকে, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইনজেকশন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
দেরি করলে শরীরে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করার সুযোগ পায়, যা জটিলতা বাড়িয়ে দেয়।
বুস্টার ডোজের গুরুত্ব
অনেকের ধারণা একবার টিটেনাস টিকা নিলেই সারাজীবনের জন্য সুরক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু ডাঃ সিংয়ের মতে, সময়ের সাথে সাথে এই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য:
প্রতি ১০ বছর অন্তর একটি করে বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত।
যদি ক্ষতটি খুব গভীর বা নোংরা হয়, তবে শেষ টিকার মেয়াদ ৫ বছর পার হলেই পুনরায় বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ক্ষতটি যদি গভীর হয়, ক্ষতস্থানে প্রচণ্ড ব্যথা বা ফোলাভাব থাকে কিংবা আপনি যদি শেষ কবে টিটেনাস টিকা নিয়েছেন তা মনে করতে না পারেন, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, টিটেনাস একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, আর সঠিক সময়ে একটি ইনজেকশনই পারে আপনার জীবন বাঁচাতে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি