
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নাজেরা শ্রণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শামসুল প্রামানিক নামের এক বৃদ্ধকে আটক করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিক উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের হলদিঘর গ্রামের মৃত ছেকেন প্রামানিকের পুত্র মাদ্রসা সংলগ্ন মোদী দোকানী। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাড়াদহ ইনিয়নের হলদিঘর তা’লিমুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার নাজেরা শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিহাবকে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নিজের কাছে রেখে দেন মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা মোঃ সোহেল। এদিন রাতেই মাওলানা সোহেলের নানা মারা গেলে মাদ্রাসা থেকে চলে যাওয়ার সময় বৃদ্ধ শামসুল প্রামানিককে শিহাবের কাছে রেখে যান। সারারাত শিহাবের সাথে ঘুমানোর পর শুক্রবার ভোরে মামসুল প্রামানিক জোড়পূর্বক ঐ শিক্ষার্থীর পড়নের কাপড় খুলে ফেলেন এবং গালে কামড়ে দেন। দীর্ঘ সময় যৌন নীপিড়ন চালানোর পর এ কথা কাউকে বলে দিলে মেরে পাশের কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাড়ি চলে যান। ঐ শিক্ষার্থী বাড়িতে গেলে মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড় এবং নখের আচর দেখে শিহাবের বাবা জিজ্ঞাসা করলে সব বলে দেয়। পরে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়রা শালিস বৈঠকে বসলেও কোন সমাধান না হওয়ায় ঐ শিক্ষার্থীর পিতা সূর্য শাহজাদপুর থানায় লিখিত অভিযাগ দেন। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শাহজাদপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে হলদিঘর তা’লিমুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা মোঃ সোহেল জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাতে আত্মীয়ের জানাজার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় মাদ্রসার শিশু শিক্ষার্থীর কাছে শামসুল প্রামানিককে রেখে যাই। পরদিন ফিরে এসে শামসুল প্রামানিক এবং নাজেরা বিভাগের ঐ শিক্ষার্থীকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারণা শুনতে পাই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভাবে মিমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টাও করা হয়। তবে ঐদিন সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় অভিযোগ দেন।’
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।