
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল এলাকায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় মাঠের পাকা ও আধা-পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে ফলন বিপর্যয় ও আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্থানীয় কৃষকদের।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ সদর, মাধাইনগর, তালম, বারুহাস, নওগাঁ ও মাগুরা বিনোদ,দেশীগ্রাম ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ধান কাটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের সব পরিকল্পনা ও স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
দেশীগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াতেঘড়ী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, অনেক কষ্ট আর ঋণের টাকা দিয়ে ধান চাষ করেছি। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টিতে সব ধান মাটিতে মিশে গেছে। দ্রুত আবহাওয়া ভালো না হলে এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।
একই এলাকার কৃষক গোলাম রাব্বানি বলেন, ধান এখন কাটার উপযোগী। ঠিক এই সময়ে বৃষ্টি আর ঝড়ে ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় চালের মান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় কাজ করছে। ধানে পচন ধরলে বাজারে দাম পাওয়া যাবে না।
তালম ইউনিয়নের কৃষক শাহরিয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সার, বীজ আর সেচ খরচ এবার অনেক বেশি ছিল। অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন ফসল ঘরে তোলার বদলে লোকসানের হিসাব করতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় ইরি/বোরো ধান নুয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কৃষকদের জমির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা এবং ধান পরিপক্ব হলে যত দ্রুত সম্ভব কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। আমাদের মাঠকর্মীরা কৃষকদের খোঁজ খবর রাখছেন এবং সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন।